আজকাল ওয়েবডেস্ক: কালাজাদু করার সন্দেহে মা ও মেয়েকে জ্যান্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারলেন গ্রামবাসীরা। কোলে একবছরের মেয়েকে নিয়েই ভয়ঙ্কর পরিণতি ৩২ বছরের যুবতীর। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা রাজ্য।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, কালাজাদু করার সন্দেহে এক মহিলা এবং তাঁর এক বছরের সন্তানকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ওয়েস্ট সিংভুম জেলায় ৩২ বছরের যুবতী ও তাঁর সন্তানকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কুমারডিঙি থানার অন্তর্গত এক গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় যুবতীর স্বামীও গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু কোনও মতে তিনি পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সেই রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় ওই যুবক জানিয়েছেন, গভীর রাতে একদল তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়ির বাইরে ডাকাডাকি করছিলেন। তাতেই সকলের ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির বাইরে বেরিয়েই দেখেন, ১২ জন যুবক দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী তুকতাক করেন। যা ঘিরে বচসা শুরু হয়। সেই সময় যুবতীর কোলেই ছিল একবছরের সন্তান। বচসার মাঝে দুষ্কৃতীরা ওই যুবতীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। জীবন্ত দগ্ধ হয়েই মা ও মেয়ের ভয়ঙ্কর পরিণতি ঘটে।
থানায় যুবতীর স্বামী অভিযোগ জানানোর পর, তাঁকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, ওই গ্রামেই যুবতীর স্বামীর এক আত্মীয় থাকতেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার তিনি প্রাণ হারান। ওই পরিবারের দাবি, যুবতীর তুকতাক করার জেরেই এহেন কাণ্ড ঘটেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়।
প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসেই কালাজাদুর সন্দেহে আরও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। গ্রামের মধ্যে বসে নিশ্চুপে দিনরাত তুকতাক। কালাজাদুর জেরে একের পর এক বাসিন্দাদের চরম পরিণতি! কেউ বা হারিয়েছেন প্রাণ। এবার তুকতাক করার অভিযোগে যুবকের উপর চরম প্রতিশোধ নিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের মধ্যে যুবককে নৃশংসভাবে খুন করলেন তাঁরা। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা গ্রামে ও জেলায়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার গজপতি জেলায়। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সি এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। তুকতাক করার অভিযোগে আরও চরম শাস্তি দিয়েছে তাঁকে। যুবককে খুনের পর তাঁর যৌনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেয় তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে গজপতি জেলার মোহনা থানার অন্তর্গত মালাসাদর গ্রামে। তুকতাক করার অভিযোগে ওই যুবককে কয়েকজন গ্রামবাসী ব্যাপক মারধর করেন। পিটিয়ে খুন করা হয়েছে যুবককে। এরপর তাঁর যৌনাঙ্গ কেটে বাদ দিয়ে দেন। মৃতদেহটি রাতেই হরভঙ্গি ড্যামে ফেলে দেন অভিযুক্তরা।
রবিবার সকালে সেই ড্যাম থেকেই যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জি উদয়গিরির সাব ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার সুরেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ওই গ্রামের ১৪ জন বাসিন্দাকে পুলিশ আটক করেছে। সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল তার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশকে কয়েকজন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ওই যুবক গ্রামের মধ্যে নিশ্চুপে তুকতাক করতেন। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কালাজাদু করার অভিযোগ তুলেছেন। এর জেরেই বহু গ্রামবাসীর চরম পরিণতিও হচ্ছে। ঘটনার একদিন আগেই গ্রামের এক যুবতী হঠাৎ মারা যান। গ্রামবাসীদের সন্দেহ, ওই যুবক কালাজাদুর জেরেই যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।
গ্রামবাসীদের যে ক্ষোভ বাড়ছে, তা টের পেয়েছিলেন ওই যুবক। তাঁর উপর যে হামলা হতে পারে, তাও সন্দেহ করেছিলেন। এই ভয়েই গঞ্জম জেলায় শ্বশুরবাড়িতে পরিবারকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন যুবক। সেখানে পৌঁছে শ্যালিকাকে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর পোষ্য, গবাদিপশুর যত্ন নিতে।
গত শনিবার ওই গ্রামেই পৌঁছন গোপাল নামের যুবক। বাড়িতে গিয়ে গবাদিপশু ফিরিয়ে নিতে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁর উপরে হামলা চালান ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা। তাঁকে অপহরণ করে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। খুনের পর তাঁর যৌনাঙ্গ কেটে, মৃতদেহ ড্যামে ভাসিয়ে দেন।
