আজকাল ওয়েবডেস্ক: জীবনের শেষ ভিডিও-তে আত্মঘাতী হামলা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন দিল্লি হামলায় মৃত জঙ্গি উমর-উন-নবি। ওই ভিডিও প্রকাস্যে এসেছে। যেখানে সে সাবলীল ইংরাজিতে বোঝাচ্ছে, আত্মঘাতী হামলা নিয়ে মানুষ ভুল বোঝে। উমরের বক্তব্য, আত্মঘাতী বোমা নাকি আসলে শহিদ অভিযান। গম্ভীর মুখে সেই পাঠই দিচ্ছেন তিনি। ভিডিও দেখে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে, তিনি জেহাদি আদর্শকে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তকারীদের অনুমান, গত ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণটি নিছক দুর্ঘটনা। আসলে ড. উমর-উন-নবি এবং তার সঙ্গীরা পরিকল্পনা করে বৃহৎ আকারের আত্মঘাতী বোমা হামলা ছক কষেছিল।
শহিদ অভিযানের ব্যাখ্যায় নবি বলেছেন, একজন ব্যক্তি যিনি ধরে নেয় যে সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত সময়ে মারা যাবে, কিন্তু তাতে ওই ব্যক্তির কোনও ভয় বা অনুশোচনা থাকে না।
তদন্তকারীদের বিশ্বাস, লালকেল্লা বিস্ফোরণের পরিকল্পনাকারী চিকিৎসকরা (যারা হোয়াইট কলার নামে পরিচিত) ফরিদাবাদ সন্ত্রাসবাদী মডিউলের সবচেয়ে উগ্র সদস্য উমর-উন-নবি অন্যান্যদের মগজ ধোলাই করার জন্য এই ভিডিওটি তৈরি করেছিল।
১০ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক লালাকেল্লার কাছে ব্যস্ত রাস্তায় বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হন। আহতের সংখ্যা ২০ জনেরও বেশি। বিস্ফোরণের তীব্রতা দোকানপাট ভেঙে যায়। পুরনো দিল্লিজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সহ্গে যুক্ত হোয়াইট কলার মডিউলটিতে নয় থেকে দশজন সদস্য ছিল বলে খবর। যাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন চিকিৎসক ছিলেন, যারা কলঙ্কিত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতেন এবং বিস্ফোরক তৈরির জন্য রাসায়নিক এবং উপকরণ সংগ্রহের জন্য তাদের মেডিকেল শংসাপত্র ব্যবহার করতেন।
কে ড. উমর-উন-নবি?
ড. উমর মূলত পুলওয়ামার কোয়েল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার আত্মীয়রা তাকে একজন শান্ত, অন্তর্মুখী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উমর নিজের মতো করে থাকতেন এবং ঘন্টার পর ঘন্টা পড়তেন। কিন্তু পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিককালে উমরের আচরণে বদল ঘটে। ৩০ অক্টোবর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে ফরিদাবাদ এবং দিল্লিতে ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করেছিলেন, রামলীলা ময়দান এবং সুনেহরি মসজিদের কাছের এলাকা ঘুরে দেখেছিলেন।
পুলিশের মতে, ফরিদাবাদে অভিযানের পর একটি গুদাম থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার এবং পরবর্তীতে তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর ৯ নভেম্বর তিনি নিখোঁজ হন। অনুমান যে, তিনি ধৌজ গ্রামের কাছে অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন এবং পাঁচটি ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
তদন্ত চলাকালীন আরও জানা গিয়েছে যে, উমর এবং ড. মুজাম্মিল গণাই, (যাকে পুলিশ সন্ত্রাসবাদী মডিউলটি ফাঁস করার পর গ্রেপ্তার করেছিল) তুরস্কে গিয়েছিল, যেখানে তাদের হ্যান্ডলাররা কাজ করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
