আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়েবাড়ি থেকে সোজা হোস্টেল পর্যন্ত পিছু! আতঙ্কে জড়সড়৷ সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, দুই যুবক একটি বিয়েবাড়িতে গিয়ে এক তরুণীকে অনুসরণ করছেন। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নেটদুনিয়ায়।
ভিডিও থেকে জানা গিয়েছে, ওই দুই যুবক বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতও ছিলেন না। তবু তাঁরা সেখানে ঢুকে পড়েন। অনুষ্ঠানের মধ্যেই তাঁদের একজন এক তরুণীকে লক্ষ্য করেন। তাঁদের ভালো লাগে মেয়েটিকে। এরপর থেকেই শুরু হয় অনুসরণ করা।
ভিডিওতে যুবকদের একজন নিজেই পুরো ঘটনা বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন, বিয়েবাড়িতে গিয়ে একটি মেয়েকে তাঁর খুব পছন্দ হয়ে যায়। তারপর তাঁরা ঠিক করেন, বাইরে বেরোলেই তরুণীর সঙ্গে কথা বলবেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁরা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করছেন। অন্যদিকে চোখ রাখছেন মেয়েটির উপরেই।
এরপর একটি সময়ে তরুণী সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তখন ওই যুবকদের মধ্যে একজন, ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে জানান, তিনি তরুণীর সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছেন। কিন্তু, কিছুক্ষণ বাদে দেখা যায় মেয়েটি তাঁর ভাই এর সঙ্গে বিয়েবাড়িতেই রয়েছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী স্কুটার নিয়ে হোস্টেলের দিকে যাচ্ছেন। ওই দুই যুবকও তাঁর পিছনে পিছনে যান। পিছু করতে করতে পরে তাঁরা প্রায় হোস্টেলের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। এরপর তাঁরা মেয়েটির ঘর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, এবং একটি চিরকুট লিখে সেটি মেয়েটির বারান্দার দিকে ছুঁড়ে দেন। এই আচরণে তরুণী সহ হোস্টেলের অন্যান্য ছাত্রীরাও চমকে ওঠেন।
চিরকুট ছুঁড়ে দেওয়ার পর তাঁরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই আচরণকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যারা এমন আচরণ করে, তাদের বাইরে নয়, জেলের ভিতরে থাকা উচিৎ।” আরেকজন বলেন, “এই ধরনের আচরণের জন্যই মেয়েরা রাস্তায় নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারেন না।”
কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, ভিডিওটি সাজানো কি না। তাঁদের মতে, এটি হয়তো কনটেন্ট তৈরির জন্য করা হয়েছে। কমেন্ট সেকশনে অনেকেই বলেছেন, যদি ভিডিওটি সাজানোও হয়ে থাকে, তবু এই ধরনের কনটেন্ট বিপজ্জনক। কারণ এটি অন্যদের ভুল বার্তা দিতে পারে।
এদিকে আইন কী বলছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণ আইনের চোখে স্টকিং বা অনুসরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা–এর ৭৮ নম্বর ধারায় স্টকিং অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনও মহিলাকে বারবার অনুসরণ করা বা তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা এই ধারার আওতায় পড়তে পারে।
প্রথমবার এই অপরাধ করলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ আবার করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই অপরাধটি কগনিজেবল। অর্থাৎ পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও করা সব ক্ষেত্রে অপরাধ নয়। তবে সেই ভিডিও যদি কাউকে হেনস্থা করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা আইনি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
