আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলিশের তাড়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল দুই দুষ্কৃতী। আর সেই রুদ্ধশ্বাস দৌড়ের মাঝেই প্রাণ গেল এক নিরপরাধ ব্যক্তির। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের দেহাত কোতোয়ালি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ৪২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত উত্তরাখণ্ডে। সেখান থেকেই একটি গাড়িকে ধাওয়া করছিল উত্তরাখণ্ড পুলিশের একটি দল। সীমান্ত পেরিয়ে দুষ্কৃতীদের গাড়িটি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়েই সক্রিয় হয় স্থানীয় পুলিশ। সাহারানপুরের শেখপুরা কদীম এলাকায় ঘাতক গাড়িটিকে আটকাতে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল।
দেহাত কোতোয়ালি থানার এসএইচও সুবে সিং জানান, সামনে ব্যারিকেড এবং পুলিশের দল দেখে থমকে যায় দুষ্কৃতীদের গাড়িটি। ধরা পড়ার ভয়ে চালক হঠাতই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে গাড়ি রিভার্স করতে শুরু করেন। সেই সময়ই পিছনে থাকা একটি মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, বাইক আরোহী ছিটকে রাস্তায় আছাড় খান।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শীতল। তিনি মায়াহেড়ি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসারত অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, বছরের শুরুতেই মর্মান্তিক পরিণতি। বন্ধুদের সঙ্গে বৃন্দাবন যাওয়ার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন পাঁচ তরুণ। বৃহস্পতিবার ভোরে ফরিদাবাদের বাটা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি মারুতি সুজুকি ব্যালেনো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়৷ ঘটনায় মৃত্যু হয় একজনের। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি চার বন্ধু।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সারান্স (২৫)। আহতরা হলেন লক্ষ্য, রাঘব, তুষার এবং যথার্থ। পাঁচজনই ফরিদাবাদের জওহর কলোনির বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই স্নাতক স্তরের ছাত্র। নববর্ষ উদযাপনে বৃন্দাবন যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোর তিনটে নাগাদ ওই পাঁচ বন্ধু বাড়ি থেকে বৃন্দাবনের উদ্দেশে রওনা দেন। চালকের আসনে ছিলেন সারান্স। তাঁর পাশেই বসেছিলেন লক্ষ্য। বাকি তিন বন্ধু ছিলেন পিছনের আসনে। ফরিদাবাদের নীলম ফ্লাইওভার পার করার পরই বাটা মেট্রো স্টেশনের কাছে আচমকা গাড়ির একটি টায়ার ফেটে যায়। দ্রুত গতিতে থাকা গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে রাস্তার ধারের গ্রিলে ধাক্কা মারে এবং পরে ডিভাইডারে সজোরে আঘাত করে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি এতটাই তীব্র ছিল যে, গাড়ির কাচ ভেঙে সারান্স ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। মাথায় গুরুতর চোট লাগার কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পিছনের আসনে থাকা তিন বন্ধুও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তবে চালকের পাশে সিটে লক্ষ্যের চোট তুলনামূলকভাবে কম।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুলিশ এসে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেন্ট্রাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রণধীর জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর সারান্সের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা, যান্ত্রিক গোলযোগ না কি বেপরোয়া গতি- এই সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
