আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোনকে নিয়ে দিনের পর দিন শুধুই কটুক্তি। বোনের পালিয়ে বিয়ে করার জেরে, প্রতিবেশীদের কটুক্তিতে তিতিবিরক্ত যুবক। শেষমেশ চরম পদক্ষেপ করলেন তিনি। রাগের মাথায় প্রতিবেশী দম্পতিকে নির্মমভাবে খুন করলেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মেইনপুরীতে। অভিযুক্ত যুবকের নাম, আনন্দ। কয়েক মাস আগেই ভিন জাতের এক যুবকের সঙ্গে আনন্দের বোন পালিয়ে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপরই প্রতিবেশী মহেশ চন্দ্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আনন্দকে কথা শোনাতেন। প্রায়ই বোনের কীর্তি নিয়ে কটুক্তি করতেন।
এর জেরেই আনন্দ এবং মহেশের এক আত্মীয় মিলে তাঁকে খুন করে, বাড়িতে লুটপাটের পরিকল্পনা করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি মহেশের ছেলের বিয়ে। সেই বিয়ের জন্য বাড়িতে প্রচুর সোনার গয়না রাখা ছিল। সেই সোনার গয়না চুরি করার পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের।
দিন কয়েক আগে চুরি করতে বাড়িতে প্রবেশ করার পরেই মহেশকে গুলি করে খুন করেন তাঁরা। সেই সময় ঘরে ঢুকেই চিৎকার শুরু করেন মহেশের স্ত্রী। তাঁকেও গুলি করে খুন করেন দু'জনে। এরপর সোনার গয়না চুরি করে পালিয়ে যান। তদন্তে নেমেই দু'জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের থেকে দু'টি পিস্তল ও সোনার গয়নাও উদ্ধার করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডের সেরাইকেলা- খারসওয়ান জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীর সঙ্গে নিত্যদিন অশান্তি হত স্ত্রীর। সেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে ঘিরে স্বামীকে কুপিয়ে খুন করেন ২৯ বছরের তরুণী।
জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম, পূজা কুমারী। গত ১৫ জুলাই রাতে পাশাপাশি স্বামী, স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থাতেই রাজেশ কুমার মাহতা নামের যুবকের উপর কুড়ুল নিয়ে হামলা করেন পূজা। ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে একাধিকবার কুড়ুল দিয়ে কোপ মারেন। রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানাতেই রাজেশ কুমার মাহতার মৃত্যু হয়।
পুলিশ আধিকারিক কুমার লুনায়েত জানিয়েছেন, স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা আগেই করেছিলেন পূজা। তবে সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ঘটনার দিন সন্তানদের অন্য ঘরে ঘুম পাড়িয়ে এসেছিলেন তিনি। রাজেশ খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে কুড়ুল নিয়ে রাজেশকে কোপ মারেন।
রাজেশ মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতেই ঘরের দরজা পিছন থেকে বন্ধ করে বেরিয়ে যান পূজা। এরপর তিন সন্তানকে ঘুম থেকে তুলে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন সকাল থেকে গত কয়েকদিনে প্রতিবেশীরা তাঁদের কোনও সাড়াশব্দ পাননি। তাতেই সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দেন তাঁরা। রবিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বাড়ির দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় রাজেশের পচাগলা দেহ।
ঘরের মধ্যেই ছিল রক্ত মাখা কুড়ুলটি। ঘরের ছন্নছাড়া অবস্থা দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয়। এদিকে প্রতিবেশীরা জানান, সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী পূজা পলাতক। খুনের সন্দেহ হতেই পুলিশ পূজার খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে আটক করে তাঁকে। দীর্ঘ পুলিশি জেরায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কাঁদতে কাঁদতেই জানান, স্বামীকে তিনি খুন করেছেন।
পূজা আরও জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী, রাজেশ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অন্য এক তরুণীর সঙ্গে দিনের পর দিন কথা বলতেন ফোনে। প্রথমে সন্দেহ হলেও, পরে জানতে পারেন, সেই তরুণীর সঙ্গেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত স্বামী। অবশেষে তিনি খুনের পরিকল্পনা করেন। পূজাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে তারা। ঘটনার তদন্ত এখনও জারি রয়েছে। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি এবং রক্তের দাগ লাগা দু'টি স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
