আজকাল ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের এক জনবহুল পাবলিক সাইক্লিং ট্র্যাকে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এক ভয়াবহ ও অত্যন্ত অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার শিকার হলেন এক তরুণী। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ওই তরুণী সাইক্লিং ট্র্যাক ধরে হাঁটছেন এবং চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে পুরো ঘটনার বিবরণ দিচ্ছেন। তিনি জানান, ঘড়িতে তখন সকাল সোয়া ছয়টা। সাধারণত এই সময়ে ওই এলাকায় যথেষ্ট ভিড় থাকে। তা সত্ত্বেও এক ব্যক্তি জনসমক্ষেই অত্যন্ত অশালীন আচরণ শুরু করেন, যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান ওই তরুণী।
ভিডিওতে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান যে, ওই ব্যক্তির কুৎসিত আচরণের প্রমাণ রাখতে তিনি তড়িঘড়ি ফোনের ক্যামেরা খোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মিলি-সেকেন্ডের জন্য লোকটির মুখ রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। ক্যামেরা চালু হওয়ার আগেই সে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। ওই তরুণী আক্ষেপ করে বলেন, "যদি আর কয়েক সেকেন্ড আগে আমার ক্যামেরাটা খুলত, তবে আমি ওর মুখটা সবাইকে দেখিয়ে দিতে পারতাম।"
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই তরুণী ভিডিওর মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে নারীদের পোশাক নিয়ে যারা নীতি পুলিশি করেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি নিজের জগিং করার পোশাকটি ক্যামেরায় দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, "দৌড়ানোর সময় আর কী ধরনের পোশাক পরা উচিত? আমি সূর্য ওঠার আগে বাড়ি থেকেও বেরোই না, দিনের আলো ফোটার পরেই আসি।" অর্থাৎ, সময় বা পোশাক কোনওটিই যে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারছে না, সেটিই তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তিনি এখন শহর হায়দরাবাদের দিকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, যেখানে মানুষ শরীরচর্চা করতে আসে সেই জায়গাটুকুও কি আর নিরাপদ নয়?
তরুণীর এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। অনেকের মতে, এই ঘটনাটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে প্রকাশ্য স্থানেও মহিলারা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কেউ কেউ আবার এর মূলে শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেছেন। সমাজ সচেতন মহলের দাবি, ছোটবেলা থেকেই সুস্থ যৌনশিক্ষা এবং অন্যের সীমানার প্রতি সম্মান জানানোর বোধ তৈরি হওয়া একান্ত জরুরি। দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় এমন ঘটনার খবর সামনে আসার পর অনেক নারীই এখন বাইরে বেরোতে আতঙ্ক বোধ করছেন। এই ঘটনাটি ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, যাতায়াত বা শরীরচর্চার মতো অতি সাধারণ কাজেও মহিলাদের প্রতি মুহূর্তে কত কঠিন ও কুৎসিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।















