আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফোনে কথা বলাই কাল৷ এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন যুবক। অভিযোগ, সেই ‘অপরাধে’ ২২ বছরের ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করলেন মহিলার ভাইয়েরা। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলার এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম পালারাম। পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনের জন্য বর্ষবরণের রাতকেই বেছে নিয়েছিল অভিযুক্তরা। ৩১ ডিসেম্বর রাতে নিউ ইয়ার পার্টির অছিলায় হনুমানগড় থেকে পালারামকে ডেকে আনা হয়। এর পর একটি নির্জন জায়গায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে প্রচুর মদ্যপান করানো হয় বলে অভিযোগ। পালারাম নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করে অভিযুক্তরা।
পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের চোটে যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাস্তাতেই পালারামের মৃত্যু হয়। এর পরেই ভয় পেয়ে হনুমানগড়-শ্রীগঙ্গানগর হাইওয়ের পাশে একটি গাড়ির ভেতর দেহটি ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
সদর থানার আধিকারিক সুভাষচন্দ্র জানান, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে আর কারোর হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরু জেলায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিয়ে করতে চাওয়াই ভুল হল এক যুবকের৷ তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় খুঁটিতে বেঁধে মারধর ও চরম অপদস্থ করার অভিযোগ উঠল। দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে পরিবারের অমতে বিয়ে করার ‘শাস্তি’ দিতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এলুরুর বাসিন্দা সাই চাঁদ এবং সাই দুর্গার আট বছরের প্রেম। কিন্তু মেয়ের বাড়ির লোকেরা এই সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। শেষমেশ পরিবারের অমতেই পুলিশি নিরাপত্তায় বিয়ে সারেন ওই যুগল। বিয়ের আসরে বরের বাড়ির সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কনের বাড়ির কেউ আসেননি।
অভিযোগ, এই বিয়ের পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা। সাই চাঁদকে একা পেয়ে তাঁরা চড়াও হন। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই হুলুস্থুল। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, যুবককে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাঁকে দফায় দফায় মারধর ও লাঞ্ছনা করা হয়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এলুরু জেলার পুলিশ সুপার শিব প্রতাপ কিশোর জানিয়েছেন, “মেয়ের পরিবার সম্ভবত এই বিয়ে মানতে চায়নি কারণ তরুণী ডাক বিভাগে চাকরি করেন আর যুবকটি এখনও বেকার। আমরা অপহরণ ও মারধরের মামলা দায়ের করেছি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।” পুলিশ এই ঘটনার খতিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে ওই নবদম্পতিকে পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।
