আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনা একটি অসাধারণ ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এই প্রথমবার চাক্ষুস যুদ্ধ মোডে কাজ করতে। ভিডিওতে আরও দেখা যাচ্ছে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ‘বায়ু শক্তি ২০২৬’ মহড়ার ঠিক একদিন আগে এই ভিডিও ছেড়েছে বায়ুসেনা। 

ভিডিওটিতে এস-৪০০-কে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফুটেজে দেখানো হয়েছে যে এস-৪০০ দূর থেকে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে লক ডাউন করছে এবং নির্ভুলভাবে ধ্বংস করছে। যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অপারশেন সিঁদুরের সময় এই এস-৪০০ ব্যবহার করেই ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছিল পাকিস্তানে।

সমাজমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওটিতে, কীভাবে এস-৪০০  আকাশপথে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে তা দেখানো হয়েছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে লঞ্চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সক্রিয় করার আগে রাডারটি একটি আগত বিমানকে চিহ্নিত করছে। বায়ুসেনা আরও উল্লেখ করেছে যে তাদের সাম্প্রতিক মিশন মহড়া প্রতিটি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অর্জন করেছে। বায়ুসেনা জানিয়েছে, মহড়ার সময় সব লক্ষ্যবস্তুকে নিরপেক্ষ করা হয়েছিল যা ক্ষেপণাস্ত্রটি কতটা নির্ভুল তা প্রমাণ করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত মূলত তার আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক উন্নত করার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কিনেছিল।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ভারত নাম দিয়েছে এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলির মধ্যে একটি। মহাভারতের ভগবান বিষ্ণুর কিংবদন্তি অস্ত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত এই নামটি। রাশিয়ার আলমাজ-অ্যান্টে দ্বারা ডিজাইন করা, এস-৪০০ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের বিমান, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-সহ আকাশপথে নানা হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এবং ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে।

ভারতীয় বায়ুসেনা ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের পোখরানে ‘বায়ু শক্তি’ মহড়া করবে। এই মহড়ায় বায়ুসেনার শক্তি পূর্ণরূপে প্রদর্শিত হবে এবং অপারেশন সিন্দুরের এক ঝলকও প্রদর্শিত হবে। যুদ্ধবিমান, বিমান এবং হেলিকপ্টার-সহ ১২০টিরও বেশি প্রতিরক্ষা সম্পদ প্রদর্শিত হবে। দিল্লিতে মহড়া সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বায়ুসেনার উপ-প্রধান এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর বলেন, “এই মহড়ায় আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শণাক্ত কীভাবে করা হবে তার আভাস পাব। একটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হবে, বিমান অস্ত্র ফেলে দেবে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।”