আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুক্তির একদিন আগে বিতর্কিত চলচ্চিত্র The Kerala Story 2-এর প্রদর্শন স্থগিত করল কেরালা হাইকোর্টের। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি বেচু ক্যুরিয়ান থমাস অন্তর্বর্তী নির্দেশে বলেন, ছবির টিজারেই এমন বিষয়বস্তু রয়েছে যা 'প্রাইমা ফেসি' জনমত বিকৃত করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে।

আদালত মন্তব্য করে, টিজারের বিষয়বস্তু—যা ছবির অংশ হিসেবেই স্বীকার করা হয়েছে—“জনসাধারণের ধারণা বিকৃত করার এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার সম্ভাবনা রাখে।” বিচারপতি থমাস আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা বা সামাজিক ঐক্য দুর্বল করতে পারে এমন বিষয়বস্তুর প্রচার সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না।

তিনি নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের দাখিল করা রিভিশন পিটিশন দুই সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বিবেচনা করবে Central Board of Film Certification (CBFC)। নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি দেওয়া যাবে না।

কারা করেছিলেন মামলা?

কান্নুরের শ্রীদেব নম্বূদিরি-সহ কয়েকজন আবেদনকারী CBFC-র দেওয়া শংসাপত্রকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান। তাঁদের অভিযোগ, ছবিটি কেরল রাজ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এর মুক্তি সাম্প্রদায়িক অশান্তি উসকে দিতে পারে।

এর আগের শুনানিতেই হাইকোর্ট জানিয়েছিল, সব পক্ষের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত ছবির মুক্তি স্থগিত রাখা হতে পারে। মঙ্গলবার আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, “কেরল সম্প্রীতিতে বসবাস করে। কিন্তু ছবিতে দেখানো হয়েছে যেন সারা কেরলজুড়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে—এটি ভুল ইঙ্গিত এবং উসকানি দিতে পারে।”

ছবির প্রচারে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রযোজক বিপুল অম্রুতলাল শাহ ও পরিচালক কামাক্ষা নারায়ণ সিং-এর সঙ্গে সাংবাদিকদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। অনুষ্ঠানে ৩০ জন মহিলাকে মঞ্চে আনা হয়, যাঁরা জোর করে  ধর্মান্তরের শিকার বলে দাবি করা হয়। তবে তাঁদের কেউই কেরলের বাসিন্দা নন—এই বিষয়টি ঘিরেই প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকেরা।

মিডিয়ার একাংশ অভিযোগ করেন, ছবিটি “কেরলকে অপমান” করছে এবং কেন কোনও “মালয়ালি ভুক্তভোগী” উপস্থিত নেই তা জানতে চান। নির্মাতারা দাবি করেন, এটি একটি “প্যান-ইন্ডিয়া” গল্প, রাজনৈতিক নয় এবং কেরলের নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

এখন CBFC-র পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ছবিটির ভবিষ্যৎ। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে স্পষ্ট—নতুন করে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত The Kerala Story 2 প্রেক্ষাগৃহে আসছে না।

এই ঘটনায় আবারও সামনে এল শিল্পের স্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়িত্বের চিরন্তন বিতর্ক—একদিকে মতপ্রকাশের অধিকার, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্ন।