আজকাল ওয়েবডেস্ক: পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান ও জম্মু–কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘিনী’ বলে অভিহিত করে বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার দেশজুড়ে চালানো অভিযানের কৌশল প্রথমে কাশ্মীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা এখন দেশের অন্যান্য রাজ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

মেহবুবার দাবি, কাশ্মীর বহু বছর ধরেই কেন্দ্রের বিভিন্ন ‘এক্সপেরিমেন্ট’-এর পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “এখন সারা দেশ তার স্বাদ পাচ্ছে। আগে তারা পায়নি। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরে যখন একের পর এক অভিযান চলছিল, তখন দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল চুপ ছিল। তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবুও কেউ মুখ খোলেনি। এখানে সংবাদপত্র খুললেই দেখা যায়, প্রতিদিন ২০-২৫টি করে অভিযান চলছে।”

এই প্রেক্ষিতেই তিনি পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক ইডি অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এখন এটা বাংলায় হচ্ছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাহসী মহিলা। তিনি একজন বাঘিনী। তিনি লড়াই করবেন, আত্মসমর্পণ করবেন না।” উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইডি অভিযানের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়ে আই-প্যাকের দপ্তর থেকে নথি উদ্ধার করেন এবং শুক্রবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল ও জনসভায় নেতৃত্ব দেন।

এদিন মেহবুবা মূলত সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। কমিশন চলতি শিক্ষাবর্ষে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্স-কে ৫০ আসনের এমবিবিএস কোর্স চালানোর অনুমতি প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে আপাতত ওই মেডিক্যাল কলেজ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

মেহবুবা মুফতির অভিযোগ, এনএমসির এই সিদ্ধান্ত ১৯৪৭ সালে তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জনগণের নেওয়া সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের প্রতিই এক ধরনের অবজ্ঞা, যেখানে মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চল হয়েও তারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিল। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অংশেও প্রয়োগ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, “যদি মুসলিম-অধ্যুষিত এই অঞ্চলে আমাদের যুবকদের জন্য জায়গা না থাকে, তাহলে তারা হরিয়ানা, পাঞ্জাব বা অন্য রাজ্যে কী অবস্থার মুখোমুখি হবে? যদি নিজের ঘর থেকেই আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অন্যরা কী করবে? ঈশ্বর না করুন, কিন্তু আমি আশঙ্কা করছি, এই মডেল অন্য জায়গাতেও নকল করা হবে।”

মেহবুবার মতে, এর প্রভাব সারা দেশে পড়াশোনা করা লক্ষ লক্ষ কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের উপরও পড়তে পারে। তিনি বলেন, “যদি কিছু সাম্প্রদায়িক মানুষ প্রতিবাদ দেখিয়ে এনএমসিকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে থাকে, তাহলে তা অন্যদের উৎসাহিত করবে। কোথাও বজরং দলের লোকজন, কোথাও গডসের অনুসারীরা দাবি তুলবে কাশ্মীরি মুসলিমরা এখানে পড়াশোনা করছে। তখন কে থামাবে?”

একই সঙ্গে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ‘অনৈতিক আঁতাত’-এর ইঙ্গিতও দেন। মেহবুবার দাবি, “ওমর আবদুল্লা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কেন্দ্র হয়তো কলেজটি বন্ধ করে দিতে পারে। তার ঠিক পরদিনই ডি-রেকগনিশনের নির্দেশ চলে এল।”

মেহবুবা মুফতির বক্তব্যে স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রের সিদ্ধান্ত সব মিলিয়ে কাশ্মীর ও দেশের অন্যান্য রাজ্যে একই রাজনৈতিক ছক প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতিরোধই ভবিষ্যতের দিশা ঠিক করবে।