আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় অভিযুক্ত সমাজকর্মী উমর খালিদের জামিনের আবেদন সম্প্রতি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই আবহে উমরের সমর্থনে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার সমাজমাধ্যমে উমরের উদ্দেশে একটি ছোট কবিতা লিখেছেন তিনি।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মহুয়া কবিতার শিরোনাম দিয়েছেন- ‘তুমি জেগে উঠবে, উমর খালিদ’। কবিতার ছত্রে ছত্রে প্রতিবাদের সুর ফুটিয়ে মহুয়া লিখেছেন, উমরকে নিয়ে ইতিহাসে মিথ্যে লেখা হতে পারে কিংবা তাঁকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় তিনি আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠবেন। হাজারো ঘৃণা বা কোনওরকম কটু কথা উমরের জয়যাত্রা রুখতে পারবে না বলেই মহুয়ার কবিতায় ইঙ্গিত মিলেছে।
উল্লেখ্য, সোমবার উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। তবে একই মামলায় আরও কয়েকজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পর জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) চত্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, "জেএনইউ-তে ‘দেশদ্রোহী’ মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। দেশ ভাঙার যে কোনও চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।"
অন্যদিকে বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেস ও বামেদের একহাত নিয়ে তাঁদের ‘শহুরে নকশাল’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই এরা উমর খালিদদের সমর্থন করছে। দিল্লির বিজেপি নেতা আশিস সুদও এই স্লোগানকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, জেএনইউ ক্যাম্পাসের সেই রক্তঝরা রাতের স্মৃতি উসকে দিয়ে ফের বিচার চাইল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জেএনইউটিএ)। ছয় বছর আগে ৫ জানুয়ারির সেই 'ভয়াবহ' হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সোমবার একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে শিক্ষক সমিতি।
ঠিক ছয় বছর আগে এই দিনেই অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি রড, লাঠি আর পাথর নিয়ে জেএনইউ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিল একদল ‘মুখোশধারী’। রক্তাক্ত হয়েছিলেন পড়ুয়া থেকে অধ্যাপক- সকলেই। সোমবার সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা স্মরণ করে ক্ষোভে ফেটে পড়ল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তাদের সাফ অভিযোগ, হামলাকারীরা আজও ধরা পড়ল না। উল্টে দোষীদের আড়াল করতে প্রশাসন ও পুলিশ বসে আছে।
শিক্ষক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ছ’বছর কেটে গেলেও আততায়ী এবং তাদের নেপথ্যে থাকা মূল মাথাদের পরিচয় আজও ঢাকা পড়ে আছে। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তাকে স্রেফ ‘অযোগ্যতা’ বলতে নারাজ শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, এটি আসলে অপরাধীদের বাঁচানোর একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা বা ‘কপ্লিসিটি’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে
প্রশাসন একদিকে অপরাধীদের প্রতি দয়া দেখাচ্ছে, অন্যদিকে নিরপরাধ ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করতে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের মতো প্রাক্তন ছাত্ররা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে জেলে পচছেন। বারবার তাঁদের জামিন নাকচ হওয়া এই সময়টাকে আরও যন্ত্রণাদায়ক করে তুলেছে।
তবে জেএনইউটিএ-র দাবি, ভয় দেখিয়ে বা হামলা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া যায়নি। প্রতিবাদী সুর আজও থামেনি।
সংগঠনের সভাপতি সুরজিৎ মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চলবেই। হামলাকারীরা ভাবছে তারা অধরা, কিন্তু আমরা তাদের চিনি। কাউকেই ভুলে যাওয়া হবে না।”
