আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। নিহত হয়েছেন খামেনেইর স্ত্রী, মেয়ে, জামাই, পুত্রবধূ, নাতনিও। এর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতেও দফায় দফায় শোকমিছিল হচ্ছে। খামেনেইর মৃত্যু ঘিরে এখনও উত্তপ্ত। 

 

খামেনেইর মৃত্যুর পর দফায় দফায় কাশ্মীরে প্রতিবাদ মিছিল ও শোক মিছিল হচ্ছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় কাশ্মীরে এখনও পর্যন্ত ১৪ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

 

রবিবারের মতোই সোমবার কাশ্মীরে জোরদার প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল। আহত ১৪ জনের মধ্যে ছ'জন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য। কাশ্মীরে এখনও পর্যন্ত ৭৫টির বেশি প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। মঙ্গলবারেও শোকমিছিল হতে পারেই খবর। 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনেইর নিহত হওয়ার খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর উপত্যকা, লাদাখ, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, কর্নাটক-সহ শিয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। 

 

সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কাশ্মীরে। শ্রীনগর শহর, লাল চক, সাইদা কাদল, বুদগাম, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা-সহ উপত্যকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শোকমিছিল বের হয়। কালো পতাকা, খামেনেইর ছবি এবং ইরানের সমর্থনে ব্যানার হাতে মিছিলে অংশ নেন বহু মানুষ। নওহা পাঠ ও বুক চাপড়ে মাতমে মুখর হয়ে ওঠে শহরের একাধিক এলাকা। এক প্রতিবাদী বলেন, “আমাদের প্রিয় নেতা শহিদ হয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শোক পালন করছি।” বহু মহিলা ও শিশুর উপস্থিতিও চোখে পড়ে মিছিলে। 

 

প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রীনগরে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী দু’দিন স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি নলিন প্রভাত নিজে রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যদিও উত্তেজনা ছিল, বড় ধরনের হিংসার খবর মেলেনি। উপত্যকায় প্রায় ১৫ লক্ষ শিয়া বাস করেন, এবং তাঁদের একাংশের কাছে খামেনেই ছিলেন গভীর প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব—রবিবারের শোকমিছিল তারই প্রমাণ বহন করে।