আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আগুনে কার্যত খাঁচাবন্দি দশা ইরানে পাঠরত ভারতীয় পড়ুয়াদের। শ্রীনগরের বাসিন্দা মুসা রউস বর্তমানে ইরানের উরমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাত্র। সেখান থেকেই উদ্বেগের সুরে তিনি শোনালেন যুদ্ধের আশঙ্কায় থমথমে জনপদের কথা।
মুসা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চিত। তাঁর কথায়, "কাল সকাল আর রাতেও মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ হয়েছে। রাত দু’টো নাগাদ ডর্মিটরির খুব কাছেই, বড়জোর তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে আমরা জোরালো শব্দ শুনতে পাই।" মাঝরাতের নিস্তব্ধতা ফালাফালা করে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে যুদ্ধবিমান, আর তার পরেই কেঁপে উঠছে চারপাশ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যেন এখন হস্টেলের বাইরে পা না বাড়ান। মুসা জানালেন, তাঁদের বলা হয়েছে এক জায়গায় থাকতে, যাতে জরুরি ভিত্তিতে এলাকা খালি করতে হলে কাউকেই খুঁজতে না হয়। খাবারের সংস্থান বিশ্ববিদ্যালয় করলেও, ইন্টারনেট পরিষেবা তলানিতে ঠেকায় দেশের বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ১,২০০ পড়ুয়া আটকে রয়েছেন। এর মধ্যে উরমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েই আছেন ১০৯ জন ভারতীয়। বিশেষ করে তেহরানে থাকা পড়ুয়াদের মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্বেগজনক খবর এই যে, গত ৪০ ঘণ্টায় ইরানে ১৭১ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘরের ছেলেমেয়েদের এই অবস্থায় রেখে কার্যত চোখের পাতা এক করতে পারছেন না দেশে থাকা তাঁদের স্বজনরা।
