আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের সাতনা থেকে সামনে এসেছে এক ভয়াবহ পারিবারিক হিংসার ভিডিও, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি নিজের ঘরের মধ্যেই স্ত্রী'র হাতে নির্মমভাবে প্রহৃত হচ্ছেন। আতঙ্কিত ওই ব্যক্তি নিজেই মোবাইল ফোনে নির্যাতনের দৃশ্য রেকর্ড করেন, যেন অন্তত প্রমাণ থেকে যায় তাঁর উপর ঘটে চলা এই ভয়ঙ্কর অত্যাচারের।
ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, এক হাতে ক্যামেরা ধরে কাঁপা গলায় ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে অনুরোধ করছেন, তাঁর কাছে না আসতে। তিনি বারবার বলছেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর অনুরোধ নও প্রভাব ফেলে না স্ত্রী'র ওপর। উল্টে স্ত্রীকে দেখা যায় হুমকি দিতে, ভয় দেখাতে এবং মুহূর্তের মধ্যেই রাগের বিস্ফোরণে স্বামীর উপর চড়াও হতে।
ভিডিওতে স্পষ্ট, মহিলা প্রথমে মারধর শুরু করেন এবং পরে একপর্যায়ে স্বামীকে শ্বাসরোধ করারও চেষ্টা করেন। অসহায় স্বামী তখন হতাশ কণ্ঠে বলে ওঠেন, “মেরে ফেলো আমায়, মেরে ফেলো…” এই কাতর আর্তনাদ স্রেফ একটা শারীরিক যন্ত্রণার জন্যই নয়, বরং মানসিক ভেঙে পড়ারও এক করুণ সাক্ষ্য।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল, এই নির্যাতন ঘটছে একটি বন্ধ ঘরের ভিতরে এবং সেই সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন ওই ব্যক্তির মা। চরম আতঙ্কে তিনি হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন, “মা বাঁচাও…” এই আর্তনাদেই বোঝা যায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল।
ভিডিওর শেষাংশে দেখা যায়, কোনওরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। মা তখন ছেলেকে আগলে ধরেন, পুত্রবধূর আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত কিছুর পরেও মহিলার মধ্যে কোনও অনুশোচনার ছাপ দেখা যায় না। বরং তিনি দরজা বন্ধ করে নিজেকে ঘরের ভিতরে আটকে ফেলেন, বাইরে রেখে দেন স্বামী ও শাশুড়িকে।
