আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনলাইন গেমই কাল। এই গেমের নেশাই কি শেষমেশ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল চার কিশোর-কিশোরীকে? দেশের দুই রাজ্যে সম্প্রতি ভয়াবহ দুটি ঘটনা ঘটে। এই দুটি পৃথক ঘটনায় কার্যত আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশের অন্যান্য অভিভাবকেরা। মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে বাড়িতে অশান্তির জেরে ভোপালে এক স্কুলছাত্র আত্মঘাতী হয়েছে। অন্যদিকে, গাজিয়াবাদে নয় তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছে তিন বোন। মোবাইল কাড়তেই চরম পদক্ষেপ। 

জানা গিয়েছে, ভোপালের ওই ছাত্রের বয়স মাত্র ১৪ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, অষ্টম শ্রেণির ওই পড়ুয়া দিনভর মোবাইল গেমে মজে থাকত। ঘটনার দিন গেম খেলতে বাধা দিয়ে তার মা ফোনটি কেড়ে নেন। এর কিছুক্ষণ পরেই নিজের ঘর থেকে ওই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট পায়নি। পরে তার মোবাইলটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একমাত্র সন্তানের এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।

আরেকদিকে, বুধবার ভোরে তিনটি বিকট শব্দে ঘুম ভেঙেছিল গাজিয়াবাদের এক আবাসনের বাসিন্দাদের। ৯ তলার ফ্ল্যাট থেকে একে একে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে তিন বোন। বাবা মা গেম খেলতে দিতনা। এর জেরে ঝামেলা হত নিত্যদিন। এহেন ধারাবাহিক ঝামেলা থেকে 'মুক্তি' পেতেই কি এরম চরম পদক্ষেপ কিশোরীদের? প্রশ্ন তুলছে গোটা দেশ। মৃতদের বয়স ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ‘কোরিয়ান লাভ গেম’ নামের এক বিশেষ অনলাইন গেমের নেশাই এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যার আগে নিজেদের ঘরটি ভিতর থেকে আটকে দিয়েছিল ওই তিন কিশোরী। পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে যখন ঘরে পৌঁছন, ততক্ষণে সব শেষ৷ তারা একে একে নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে খবর, ২০২০ সালে অতিমারির সময় থেকেই ওই গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল তিন বোন। তারা নিজেদের কোরিয়ান নামও দিয়েছিল। এই গেমের নেশা নিয়ে বাবা-মা মাঝেমধ্যেই বকাঝকা করতেন তাদের। ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে একটি কান্নার ইমোজির পাশে লেখা ছিল- "সরি পাপা"।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তিন বোনের নাম পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বোন সব কাজই একসঙ্গে করত। খাওয়া-দাওয়া, স্নান থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া, সবক্ষেত্রেই তারা ছিল অভিন্নহৃদয়। পুলিশ জানিয়েছে, অতিমারি চলাকালীন ঘরবন্দি দশায় অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল ওই কিশোরীরা।

সম্প্রতি তারা কোরিয়ান একটি ‘লাভ গেম’ নিয়ে মেতে থাকত। এমনকী সেই আসক্তির কারণেই নিয়মিত স্কুলেও যেত না তারা। এই নিয়ে বাবা-মা আপত্তি করায় শুরু হয় বিবাদ। বুধবার রাত ২টো নাগাদ গাজিয়াবাদের ভারত সিটি আবাসন চত্বরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাদের মোবাইল ফোনগুলিও।