মহা সমারোহে বিয়ে হলেও প্রথম রাতেই ভেঙে পড়ে সম্পর্কের ভিত। বাসর ঘরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘কনে বদল’-এর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন বর। পালটা পণ চাওয়ার অভিযোগ এনেছে কনেপক্ষ। দু’পক্ষের টানাপোড়েনে শেষমেশ বিষয় গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার এই অদ্ভুত ঘটনায় এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে।
2
7
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট চণ্ডীপুরের রায়হান কবীরের সঙ্গে ভাণ্ডারের জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল—বিয়ের আয়োজন, বরযাত্রী, অনুষ্ঠান। কিন্তু বিয়ের রাতেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। রায়হান কবীরের অভিযোগ, বাসরের আগে নববধূ মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, যাঁর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে তিনি সেই পাত্রী নন, যাঁর ছবি আগে দেখানো হয়েছিল।
3
7
বরের দাবি, ঘটকের মাধ্যমে সম্বন্ধের সময় যে মেয়ের ছবি দেখানো হয়েছিল, বর্তমান নববধূ সেই ছবির সঙ্গে মেলে না। বিয়ের সময় অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিষয়টি বোঝা যায়নি বলেও তাঁর বক্তব্য। তাঁর আরও দাবি, ২ আগস্টই তিনি নববধূকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
4
7
অন্যদিকে কনেপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কনের বাবা জিয়ারুল হকের অভিযোগ, পাত্রপক্ষ ১০ লক্ষ টাকা পণ দাবি করেছিল। সেই দাবি পূরণ না হওয়াতেই ‘কনে বদল’-এর মতো মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁর যুক্তি, বিয়েতে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন, তখন কেউ কিছু লক্ষ্য না করলে এখন এমন অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।
5
7
ঘটকও কনেপক্ষের সুরে সুর মিলিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পাত্রপক্ষ নিজেরাই পাত্রী দেখতে এসেছিল এবং সম্মতির পরই বিয়ে ঠিক হয়। তাই কনে বদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
6
7
এই ঘটনায় ২৭ আগস্ট কনের বাবা মামলা দায়ের করেন। পালটা ২ সেপ্টেম্বর আদালতের দ্বারস্থ হন রায়হান কবীর। এতদিন জামিনে থাকলেও চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আদালত তাঁকে কারাবাসের নির্দেশ দেয়। ফলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই মামলা।
7
7
দু’পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। কারও মতে এটি প্রতারণা, কারও মতে পণের টাকা আদায়ের চাপ। এখন আদালতের পরবর্তী শুনানিতেই নির্ধারিত হবে, এই বহুচর্চিত বিয়ের ঘটনার শেষ পরিণতি।