আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে মুম্বইয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলি।
মঙ্গলবার আহার হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার জেরে ইতিমধ্যেই শহরের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে।
সংগঠনের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আহারের মতে, বর্তমানে শহরের কত রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে কতটা এলপিজি মজুত রয়েছে তার ওপর।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই পরিস্থিতি যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মুম্বইয়ের প্রায় অর্ধেক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’
তবে সংগঠনের তরফে একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে হোটেলগুলি একযোগে বন্ধ করার বিষয়ে কোনও সরকারি বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোনও রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে বা সাময়িকভাবে বন্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকরাই। গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতির উপরই তা নির্ভর করবে।
হঠাৎ করে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় শহরের বহু হোটেল ও খাবারের দোকানের রান্নাঘরের কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
অধিকাংশ রেস্তোরাঁই দৈনন্দিন রান্নার জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হয়।
শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে যে রেস্তোরাঁগুলি খোলা রয়েছে সেখানেও ইতিমধ্যেই মেনুর আইটেম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগেই রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
গত দু’দিনের খবর অনুযায়ী, বাণিজ্যিক এলপিজির ঘাটতির প্রভাব শুধু মুম্বইয়ে নয়, দেশের একাধিক শহরে রেস্তোরাঁয় পড়তে শুরু করেছে।
রেস্তোরাঁ সংগঠনগুলির আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যা না মিটলে হাজার হাজার খাবারের দোকান ও হোটেল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এরই মাঝে সঙ্কটের সময় কালোবাজারি রুখতে এবং সিলিন্ডারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত সরকার এলপিজি বুকিংয়ের সময়কাল ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে।
সরকারি সূত্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছে, অগ্রিম মজুত করা এবং কালোবাজারি বন্ধ করার জন্য এলপিজি বুকিংয়ের সময়কাল ২৫ দিন করা হয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের কারণ, যাঁরা ৫৫ দিনের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বুক করেছিলেন, তাঁরা যুদ্ধের আবহে ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস বুক করা শুরু করেছিলেন।
এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। অনেক দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভাল পরিস্থিতিতে আছি। পাকিস্তানের অবস্থাই দেখুন না।’
ওই আধিকারিক দাবি করেছেন, দেশের প্রতিটি পেট্রল পাম্প চালু রয়েছে। দেশে আপাতত পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রল মজুত রয়েছে। ভারতে বিমানের টারবাইন জ্বালানি বা এটিএফেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ইতিমধ্যেই তেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গৃহস্থালির এলপিজি ব্যবহারের জন্য প্রোপেন এবং বিউটেন উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে।
গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাসের ঘাটতি রোধ করতে পুনে পুর কর্পোরেশন (পিএমসি) দ্বারা পরিচালিত গ্যাস-ভিত্তিক শ্মশান চুল্লিগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
৭ মার্চ দেশজুড়ে ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বেড়েছে।
সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারেরও বেশি উঠে যায়। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে তেলের দাম এতটা বাড়েনি।
এর কারণ, কিছু প্রধান তেল উৎপাদক সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দীর্ঘস্থায়ী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
