আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের কোনও আইন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে খোলা যাবে না মুখ। এমনকি, রাজ্য সরকারের বিরোধী কোনও কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়া যাবে না। সমালোচনা যদি করতেই হয় তাহলে তা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও আইন নিয়ে করা যাবে। কেরালা সরকারের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) বিল নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। বিলটির এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকরা রাজ্য আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও আইন নিয়ে সমালোচনার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বিলের প্রস্তাবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে। এখানেই শেষ নয়, বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনও কিছু প্রচার করতে হলে সেটা লিখিত, মুদ্রিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম যাতেই হোক না কেন—তাতে বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না।

উল্লেখ্য, এর আগে কেরালা সরকারের ডাকা একটি সেমিনারে ইউজিসি-র নিয়মাবলীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকরা অংশ নেন। সেই নিয়ে রাজভবনের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সেই অসন্তোষের পর বেশিরভাগ উপাচার্য বয়কট করেন সেমিনার। অনুমান করা হচ্ছে, এই ধরনের ঘটনা এড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়েও। বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী যিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রো-চ্যান্সেলরও তিনি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়, যেমন পরিকাঠামো, কোর্স, পরীক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।

তবে এটি এখনও পাস হয়নি কেরালা বিধানসভায়। বর্তমানে এটি রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও এই একই ধরনের বিলে অনুমোদন দিতে অস্বীকার করেছিলেন রাজ্যপাল। তবে কেরালার ঘটনায় রীতিমত সমালোচনার ঝড় উঠেছে শিক্ষামহলে। একাংশের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা কেড়ে নিতেই এই ধরনের বিল পাস করানোর চেষ্টা চলছে।