আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলের চেরথালার একটি রেস্তোরাঁর প্রচারমূলক পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে বড়সড় বিতর্ক। বিষ্ণু উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনেই বিপাকে পড়েছে মেহের মান্ডি অ্যান্ড গ্রিলস। অভিযোগ, পোস্টারে হিন্দু ধর্মের পূজ্য দেবতা কৃষ্ণকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যেখানে তিনি একটি নন-ভেজ, বিশেষত চিকেন ডিশের সঙ্গে যুক্ত—যা বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন রেস্তোরাঁটি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ছবিটি পোস্ট করে। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সমালোচকদের বক্তব্য, বিষ্ণুর মতো একটি পবিত্র উৎসবের সময় এমন একটি ছবি ব্যবহার করা শুধু অসংবেদনশীলই নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার চেষ্টা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বহু ব্যবহারকারী। একজন লিখেছেন, “ক্ষমা চাওয়া মানে কী? প্রথমেই এই ধরনের ভাবনা এল কীভাবে? হিন্দুদের উৎসব ও বিশ্বাস নিয়ে এমন অবজ্ঞা কেন?” অন্য একজন আরও একধাপ এগিয়ে বয়কটের ডাক দেন। তাঁর কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি ব্যবহার করুন। ওদের ব্যবসা বয়কট করুন, জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। না হলে এরা শিক্ষা নেবে না।”
এই বিতর্ক দ্রুতই একটি বড় জনরোষে পরিণত হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একটি ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে এমনভাবে মাংসের খাবার জুড়ে দেওয়া হল, যখন প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণের পূজায় নিরামিষ ভোগই অর্পণ করা হয়।
বিতর্ক চরমে পৌঁছালে রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে একটি ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে কর্তৃপক্ষ দাবি করে, এই ভুলটি হয়েছে একটি আউটসোর্সড ডিজাইনারের কারণে এবং তাদের পক্ষ থেকে যথাযথ নজরদারির অভাব ছিল। তারা জানায়, এই কাজ সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় অনেকেই। সমালোচকদের যুক্তি, একটি ব্র্যান্ডের প্রচারমূলক ধারণা বা কনসেপ্ট কখনওই শুধুমাত্র ডিজাইনারের উপর নির্ভর করে না। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “ডিজাইন আউটসোর্স করা হতে পারে, কিন্তু আইডিয়াটা তো সংস্থারই। এটা ভুল নয়, ইচ্ছাকৃত।”
আরও কেউ কেউ অতীতের কর্পোরেট বিতর্কের সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, “এটা কোনও ভুল নয়। ইচ্ছা করেই হিন্দু বিশ্বাস ও দেবদেবীদের নিয়ে মজা করা হয়, তারপর বিতর্ক হলে দুর্বল ক্ষমা চাওয়া হয়। প্রশ্ন হল—হিন্দুদের অনুভূতি কি এতটাই সস্তা?”
এই ঘটনার জেরে আবারও সামনে এসেছে কর্পোরেট বিজ্ঞাপন ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন, ব্যবসায়িক প্রচারে সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা যেন কখনওই কোনও সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বা আবেগকে আঘাত না করে—সেই দায়িত্ব সংস্থাগুলিরই নিতে হবে।















