আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা কয়েক দিনের সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্ক ও তীব্র সমালোচনার পর অবশেষে ক্ষমা চাইল গ্রেটার নয়ডা-ভিত্তিক Galgotias University। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত India AI Impact Summit-এ তাদের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত একটি চীনা রোবোটিক কুকুরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এক প্রতিনিধি “ক্যামেরায় মুখ দেখানোর উত্তেজনায়” তথ্যগতভাবে ভুল মন্তব্য করেছিলেন।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে। সেখানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকা প্রদর্শিত রোবোটিক কুকুরটিকে “Orion” নামে পরিচয় করাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ ওঠে, সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সৃষ্টি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পরে জানা যায়, প্রদর্শিত যন্ত্রটি আসলে চীনা সংস্থা Unitree-এর তৈরি Unitree Go2 মডেল, যার বাজারমূল্য প্রায় ২,৮০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২.৩ লক্ষ টাকা)।
১৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, প্যাভিলিয়নে দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি প্রযুক্তিগত ব্যাপার সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানতেন না এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুমোদিত ছিলেন না। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই প্রতিনিধি “উৎস সম্পর্কে না জেনেই এবং ক্যামেরার সামনে উত্তেজিত হয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন”, যার ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় “আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী” বলেও জানানো হয়।
এর আগে ‘X’-এ এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছিল যে রোবোটিক কুকুরটি ইউনিট্রি থেকে কেনা হয়েছে এবং এটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা দাবি করে, “আমরা এই রোবোডগ তৈরি করিনি এবং কখনও এমন দাবি করিনি।”
তবে সরকারি সূত্রের দাবি, বিতর্কের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামিট প্রাঙ্গণ ছাড়তে বলা হয়েছিল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় সেই দাবি অস্বীকার করে জানায়, “আয়োজকদের মনোভাব বিবেচনা করেই” তারা স্বেচ্ছায় প্যাভিলিয়ন খালি করেছে।
ঘটনার পর এক্স-এ একটি কমিউনিটি নোটে বলা হয়, রোবোটির নাম “Orion” দিয়ে সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম-ডেভেলপড প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনায় একাডেমিক সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রযুক্তি ও শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় কোনও পণ্যের উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে স্পষ্টতা রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদিও গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, “উদ্ভাবনকে ভুলভাবে উপস্থাপনের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য ছিল না” এবং তারা একাডেমিক সততা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ক্ষমাপ্রার্থনা সত্ত্বেও বিতর্ক পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা এখনও অব্যাহত, আর ঘটনাটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনসমক্ষে উপস্থাপনার মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
