আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাঁড়িতে আটকে গিয়েছিল তিন বছরের শিশুর মাথা। কোনও মতেই বের করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানেই বিফল চিকিৎসকরা। হাঁড়ি থেকে শিশুর মাথা বের করতে পারেননি ডাক্তাররা। অবশেষে ডাকা হল এক বিশেষজনকে। তিনি এসেই শিশুটিকে উদ্ধার করলেন। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে জলগাঁওয়ে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি খেলতে খেলতেই অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে তিন বছরের শিশুর মাথা আটকে যায়। বাড়িতেই খেলাধুলা করছিল সে। মাথায় মুকুটের মতো অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে বসিয়ে রেখেছিল। আচমকাই সেটি মাথায় মধ্যে ঢুকে যায়। 

হাঁড়ি থেকে আর মাথাটি বের করতে পারছিল না ওই শিশু। ক্রমেই আতঙ্কে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ভয়ে, আতঙ্কে চিৎকার করে কান্নাকাটি করে সে। সেই কান্নার আওয়াজ শুনেই বাড়ির সদস্যরা ছুটে আসেন। তাঁরাও চেষ্টা করে হাঁড়ি থেকে মাথা বের করতে পারেননি। অবশেষে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে যান তাঁরা। 

কিন্তু কোনও হাসপাতালেই সমস্যার সামাধান হয়নি‌। অস্ত্রোপচারের জেরে শিশুর গুরুতর চোটের আশঙ্কায় চিকিৎসকরা তা থেকে বিরত হন। অবশেষে চিকিৎসক ড. মিনাজ প্যাটেল শিশুটিকে উদ্ধার করার দায়িত্ব নেন। হাঁড়ি থেকে শিশুর মাথা বের করার সময়, যাতে কোনও রক্তপাত বা গুরুতর চোট না লাগে, তার জন্য কলের মিস্ত্রী খালেদ শেখ এবং হাসপাতালের এক কর্মীকে ডাকেন। 

কাঠের পিইউসি শিট এবং ভেজা কাপড়ে শিশুর ঘাড় থেকে শরীর ঢেকে শুরু হয় অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি কাটার চেষ্টা। গ্রাইন্ডিং মেশিন দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁড়িটা কাটতে শুরু করেন তাঁরা। মাত্র ১২ মিনিটেই হাঁড়ি কেটে শিশুর মাথাটি বের করে আনা হয়। এই ঘটনায় শিশুটির একটুও চোট পায়নি। 

সকালবেলায় শিশুর মাথাটি আটকে গিয়েছিল হাঁড়িতে। রাতের বেলায় তার মাথাটি সেখান থেকে বের করে আনা হয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টায় আতঙ্কেই কাটছিল পরিবারের। শিশুটির শ্বাসকষ্টের জন্য কান্নার রোল পড়েছিল পরিবারে। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তাঁরা।