আজকাল ওয়েবডেস্ক: গভীর রাতে হস্টেলে আচমকা আর্তনাদ। সহপাঠীরা তখন অঘোরে ঘুমোচ্ছিল। সেই সুযোগেই লোহার রড উঁচিয়ে তাণ্ডব চালাল নবম শ্রেণির এক ছাত্র। শনিবার রাতে কর্ণাটকের বল্লারীর এক বেসরকারি আবাসিক স্কুলে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার জেরে গুরুতর আহত আরও কমপক্ষে আট জন।

পুলিশ জানিয়েছে, বল্লারীর ‘গুরুকুল’ আবাসিক স্কুলের হস্টেলে গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। তখনই আচমকা মারমুখী হয়ে ওঠে ওই কিশোর। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরের বাসিন্দা এক ছাত্রের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শুধু সহপাঠীরাই নয়, উন্মত্ত ওই ছাত্রের হাত থেকে রেহাই পাননি হস্টেল ওয়ার্ডেন ও এক গাড়িচালকও। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত ছাত্রটি।

শনিবার রাতের এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। বল্লারী রেঞ্জের আইজিপি পি এস হর্ষ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "অভিযুক্ত যেহেতু নাবালক, তাই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট বা কিশোর ন্যায়বিচার আইন মেনেই তদন্ত চলবে।"

এদিকে এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। মৃত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, তাদের ছেলে মাদকাসক্ত হতে পারে। হস্টেলের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে এমন প্রাণঘাতী হামলা সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

অন্যদিকে, ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে বচসা। মদ্যপ এক ব্যক্তির ধাক্কায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান ২০ বছরের এক তরুণী। এই ভয়াবহ ঘটনার পর দীর্ঘ তিন মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন শ্রীকুট্টি নামে ওই তরুণী। সোমবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

পাল্লাডের বাসিন্দা শ্রীকুট্টিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি তাঁর শ্বাসকষ্টও ছিল মারাত্মক। অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছিল। এছাড়াও তাঁর বাঁ কাঁধে গুরুতর চোট ছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিরুবনন্তপুরম সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে কোচিতে অমৃতা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে শ্বাস নেওয়ার জন্য তাঁর গলায় অস্ত্রোপচার (ট্রাকোস্টোমি) করতে হয় এবং নলের মাধ্যমে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।

চিকিৎসকদের যৌথ প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। জানা গিয়েছে, এখন তিনি নিজে খেতে, হাঁটতে এবং কথা বলতে পারছেন। এই ঘটনাকে চিকিৎসকরা 'অলৌকিক' বলেই মনে করছেন।

তবে শ্রীকুট্টির মা প্রিয়দর্শিনী জানিয়েছেন, মেয়েকে পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনও অনেকটা পথ বাকি। তিনি বলেন, "হাসপাতালে আনার সময় ও শুধু একটা চোখ খুলতে পারত, সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিল। এখন ও অন্যের সাহায্য নিয়ে হাঁটতে পারে। তবে কাঁধের অস্ত্রোপচারের জন্য ফের হাসপাতালে আসতে হবে।"

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আদালতে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানাবেন এবং সরকারের কাছেও সাহায্যের আর্জি রাখবেন।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটেছিল কেরল এক্সপ্রেসের একটি অসংরক্ষিত কামরায়। ভারকালার কাছে ট্রেনে মদ্যপ সুরেশ কুমার নামে এক ব্যক্তি দরজা থেকে সরতে রাজি না হওয়ায় শ্রীকুট্টিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।