আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৮ বছরের এক গভীর বন্ধুত্ব যে শেষ পর্যন্ত এক নির্মম খুনে গিয়ে ঠেকবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। মাত্র ৫ লক্ষ টাকার একটা সোনার চেনের লোভে নিজের সবথেকে কাছের বন্ধু, কম্পিউটার কোচিং সেন্টারের মালিক প্রকাশচন্দ্র গুপ্তকে খুন করল তার বেস্ট ফ্রেন্ড মোহিত দ্বিবেদী। খুনের ছকটি মোহিত এতটাই নিখুঁতভাবে কষেছিল যে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে সে বোরখা এবং মেয়েদের জুতো পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এমনকি এই অপরাধের পরিকল্পনা করতে সে ইউটিউব টিউটোরিয়ালেরও সাহায্য নেয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সিসিটিভি ফুটেজে বোরখা পরা সেই অবয়বের হাঁটার অস্বাভাবিক ধরণ বা পুরুষের মতো চওড়া পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত মোহিতের মুখোশ টেনে খুলে দিল পুলিশের সামনে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ মে আইপিএল ফাইনালের রাতে, প্রকাশেরই কোচিং ইনস্টিটিউটে। মোহিত জানত যে খেলা দেখার জন্য প্রকাশ সেদিন রাতে বাড়ি ফিরবে না, কোচিংয়েই থাকবে। সেই সুযোগ নিয়ে মাঝরাতে বোরখা পরে হাজির হয় মোহিত। সেই সময় প্রকাশ কিছুটা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ঘরের ভেতর মোহিত আচমকাই প্রকাশের গলা থেকে ভারী সোনার চেইনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই দুজনের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মোহিত প্রকাশকে সজোরে ধাক্কা মারলে তিনি মেঝেতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে পড়ে যান। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় প্রকাশ যখন ছটফট করছিলেন, মোহিত তখন বিন্দুমাত্র দয়া না দেখিয়ে তাঁর চেইন ও হাতের সোনার ব্রেসলেটটি নিয়ে চম্পট দেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় প্রকাশের। পরদিন সকালে পরিবারের লোকজন এসে ঘরের ভেতর প্রকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনা বা শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে পড়ে গিয়ে মৃত্যু বলে মনে করলেও, গা থেকে গয়না গায়েব থাকায় শেষমেশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তের শুরুতে পুলিশ যখন কোনও  কিনারা পাচ্ছিল না, ঠিক তখনই কানপুরের সিনিয়র পুলিশ অফিসার রঘুবীর লাল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজগুলো খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেন। সেখানেই তাঁর নজরে আসে বোরখা পরা এক সন্দেহভাজন, যার হাঁটার ভঙ্গি মহিলার  মতো ছিল না। এরপর প্রায় ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ট্র্যাক করে পুলিশ দেখতে পায়, বোরখা পরা ওই ব্যক্তি একটি গাড়ির ভেতরে ঢুকে পোশাক বদল করছে। আর সেই গাড়িটি ছিল মোহিতের। নিজের বুদ্ধির ওপর মোহিতের এতটাই ভরসা ছিল যে, খুন করার পরদিন সকালেই সে প্রকাশের কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং অপরাধস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিশের সাথেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলে। এমনকি ঘটনার পরদিনই সে নিশ্চিন্তে শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে বসে এবং তার পরের দিন লখনউ চলে যায়।

১৮ বছরের বিশ্বস্ত বন্ধুত্বের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে প্রকাশের পরিবার আজ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। প্রকাশের ভাই বিকাশ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "মোহিত যে এমনটা করতে পারে, তা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। সামান্য কিছু টাকার লোভে ও ১৮ বছরের একটা সম্পর্ককে শেষ করে দিল। ও আমার একমাত্র ভাই ছিল, এখন আমরা কাকে বিশ্বাস করব?"