আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নতুন পালক জুড়ল ভারতের মুকুটে। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও পবিত্র বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র সারনাথ পেল ইউনেস্কোর 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট'-এর গৌরবময় স্বীকৃতি। এটি ভারতের ৪৫তম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আয়োজিত ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪৭তম অধিবেশনে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। এই অর্জনের ফলে সমগ্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের সংখ্যার নিরিখে ভারত দ্বিতীয় এবং বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করল।
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধত্ব লাভের পর তাঁর প্রথম উপদেশ বা ধর্মবাণী প্রচার করেছিলেন এই সারনাথের হরিণ উদ্যানে (মৃগদাব)। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই মহিমান্বিত ঘটনাটি 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' নামে পরিচিত। এখান থেকেই তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যকে নিয়ে বৌদ্ধ সংঘের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। ইউনেস্কোর এই বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিতে মূল সারনাথ প্রত্নতাত্ত্বিক চত্বর এবং চৌখণ্ডী স্তূপ—এই দুটি প্রধান স্থান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিখ্যাত ধমেখ স্তূপ, ধর্মরাজিকা স্তূপ, মূলগন্ধকুটি বিহার এবং মহামতি অশোকের তৈরি স্তম্ভের অবশিষ্টাংশ নিয়ে গড়ে ওঠা এই এলাকা খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ ষোলো একশো বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও স্থাপত্যের সাক্ষী।
সারনাথের এই অর্জন কিন্তু এক দিনে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার সারনাথকে ইউনেস্কোর খসড়া বা 'টেন্টেটিভ' তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ পর্যালোচনা, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্থা আইকমোসের (ICOMOS) বিশেষজ্ঞ দলের সরজমিন পরিদর্শনের পর অবশেষে বিশ্ব ঐতিহ্যের চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলল।
এই খবর সামনে আসতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটিকে প্রতিটি ভারতবাসীর জন্য এক অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, বুদ্ধের করুণা, প্রজ্ঞা ও শান্তির চিরন্তন বার্তা সারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে এবং এই আন্তর্জাতিক সম্মান সারনাথের প্রাচীন সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুন মর্যাদা দিল। এর ফলে দেশ-বিদেশের অগণিত তীর্থযাত্রী ও পর্যটক সারনাথের অনন্য ঐতিহ্য প্রত্যক্ষ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। লুম্বিনী এবং বোধগয়ার পর সারনাথের এই অন্তর্ভূক্তি বৌদ্ধধর্মের প্রধান তিন পবিত্র ধামকে এক সূত্রে গেঁথে দিল।
















