আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে তীব্র গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। ঠিক এই সময়েই তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় অভিনব ‘টোটকা’ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তাঁর পরামর্শ, ‘পকেটে পেঁয়াজ রাখুন, কিছু হবে না।’
সিন্ধিয়ার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভারতীয় মৌসম ভবন ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে।
হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, বহু জায়গায় স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি, ঠিক সেই সময়েই এই মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিন্ধিয়া বলেন, ‘আমি যত ঘামি, তত মজা পাই। আমি কখনও গাড়িতে এসি চালাই না, কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গাতেও বসি না। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে, ৫১ ডিগ্রি গরমে কীভাবে থাকি? আমি বলি, ‘ইয়ে চম্বল কি চামড়ি হ্যায়, আমি চম্বলের মানুষ।’
এরপর হাতে একটি পেঁয়াজ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখতে তরুণ মনে হতে পারে। আমি বলছি শুনুন, পকেটে একটা পেঁয়াজ রাখুন, কিছু হবে না।’
গোয়ালিয়রের প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৪২৪ কোটিরও বেশি। তিনি গোয়ালিয়রের ৪০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত জয় বিলাস প্যালেসের মালিক, যা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষও শুরু হয়েছে। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, সিন্ধিয়া পরিবার বরাবরই ‘জনতা ও জমিনের’ সঙ্গে যুক্ত।
যদিও ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করা হয়, পেঁয়াজ শরীরের গরম টেনে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, পেঁয়াজ শরীরের তাপ আদৌ শোষণ করে না। এই ধরনের অদ্ভুত দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
সিন্ধিয়ার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বিজেপিকে ‘ফাঁকা বুলি আর অর্থহীন প্রচার’-এর দল বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, প্রখর গরমে গরিব মানুষ কী কষ্ট সহ্য করছেন, সে সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কোনও ধারণাই নেই।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই মন্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ ২০১৯ সালে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। লোকসভায় তিনি বলেছিলেন, তাঁর পরিবারে পেঁয়াজ-রসুন খুব বেশি খাওয়া হয় না।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সিন্ধিয়ার কি নিজস্ব পেঁয়াজের খামার রয়েছে? আবার অনেকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি এবং ৪০০-র বেশি ঘর নিয়ে তৈরি জয় বিলাস প্যালেসের সেন্ট্রাল এসির ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছেন।
অনেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জলবায়ু নীতি না থাকার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে সিন্ধিয়ার অফিস ও বাসভবনের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে।
















