আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে এক মহিলা অটোচালকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোমবার ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল এটি পথদুর্ঘটনা, কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ওই মহিলাকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ঝাঁসিতে। 

পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম অনিতা চৌধুরী (৪৫)। তিনি ঝাঁসির প্রথম মহিলা অটোচালক ছিলেন। অদম্য জেদ আর সাহসের জেরে ২০২১ সালে উত্তর প্রদেশ পুলিশ তাঁকে সম্মানও জানিয়েছিল। এমন একজন লড়াকু মহিলার এই পরিণতিতে সকলেই স্তম্ভিত।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মুকেশ ঝা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে অনিতার সম্পর্ক ছিল। মাস চারেক আগে অনিতা সেই সম্পর্ক ভেঙে দেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান,  সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে মুকেশ। আক্রোশ থেকে অনিতাকে খুন করেছে সে।

মঙ্গলবার সকালে ঝাঁসির একটি বাঁধের কাছ থেকে মুকেশের গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রবিবার রাতে অনিতার অটোর পিছু নিয়েছিল ওই গাড়ি। মূল অভিযুক্ত মুকেশ এখন পলাতক। তাঁকে খুঁজতে মুকেশের ছেলে ও শ্যালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

কানপুর জোনের এডিজি অলোক সিং জানিয়েছেন, সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ খবর আসে যে একটি অটো উল্টে তার নিচে এক মহিলা চাপা পড়ে আছেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের পরেই স্পষ্ট হয় যে, এটি দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত খুন। অনিতার মাথায় গুলির ক্ষত পাওয়া গিয়েছে।

অনিতার স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মুকেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত মুকেশকে ধরিয়ে দিতে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, আগেও মুকেশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন অনিতা। কিন্তু সেবার পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করেনি। বিচ্ছেদের পর থেকে মুকেশ লাগাতার তাঁকে চাপ দিচ্ছিল বলেই ধারণা পুলিশের। বর্তমানে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷