আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের জয়সলমেরের সেই অদ্ভুত চুরির ঘটনা হার মানাবে নেটফ্লিক্সকেও। রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটিত হল, যা গত কয়েক মাস ধরে পুলিশের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। চুরির পর গৃহকর্তাকে মদ্যপানের পরামর্শ দেওয়া আর পুলিশকে তুচ্ছতাছিলা করে দেওয়ালে লিপস্টিক দিয়ে চিরকুট লিখে আসা সেই ‘বিহারি বাবু’ এখন শ্রীঘরে। অভিযুক্তের আসল নাম তেজারাম সুথার, বয়স ৩৯ বছর। গত ৭ এপ্রিল যোধপুর জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত তেজারামের বিরুদ্ধে এর আগেও ১৮টি চুরির মামলা রয়েছে এবং সে ইতিপূর্বেও জেল খেটেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ জানুয়ারি রাতে। জয়সলমের শহরের আইজিএনপি কলোনিতে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার সোহন জাঙ্গিদের সরকারি বাসভবনে হানা দেয় তেজারাম। বাড়ির তালা ভেঙে সে ল্যাপটপ, টেলিভিশন, পারফিউম এবং পোশাকসহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী সাফ করে। তবে এই চুরির ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় চোরের রেখে যাওয়া অদ্ভুত সব বার্তার কারণে। ঘর থেকে পাওয়া লিপস্টিক ব্যবহার করে দেওয়ালে সে লিখে যায় রসালো সব পরামর্শ। একটি মেসেজে সে বাড়ির মালিককে টিপ্পনী কেটে লেখে, বাড়িতে মদ রাখলে তার সাথে যেন অবশ্যই আলুর চিপস বা ‘চাকনা’ রাখা হয়। অন্য একটি বার্তায় সে সরাসরি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে লেখে, থানায় অভিযোগ করে শুধু শুধু সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না। শেষে সে নিজেকে ‘বিহারি বাবু’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে চম্পট দেয়।

পুলিশের কাছে এই চোরকে ধরা ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। তেজারাম অত্যন্ত ধুরন্ধর; সে ধরা পড়ার ভয়ে কখনও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না, যার ফলে প্রযুক্তিগতভাবে তাকে ট্র্যাক করা অসম্ভব ছিল। এরপর জয়সলমের পুলিশ তাদের পুরনো খবরি বা ইনফরমার নেটওয়ার্ককে সক্রিয় করে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দাগিরি করার পর অবশেষে তার হদিস মেলে। যোধপুরের বাবর মাগরা এলাকার বাসিন্দা তেজারামকে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় সে নিজের অপরাধ কবুল করেছে এবং তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার অফিসার সূজারাম জানিয়েছেন, তেজারাম এক অদ্ভুত স্বভাবের অপরাধী। সে সাধারণত বাড়ির ভেতর ঢুকে তাড়াহুড়ো করে না। বরং আয়েশ করে সেখানে খাওয়াদাওয়া করে, সময় কাটায় এবং দেওয়ালে মনের সুখে লিখে তারপর চুরি করা মালপত্র নিয়ে পালায়। আদালতে তোলা হলে সে অবলীলায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়, কিন্তু সাজা খেটে বেরনোর পরই ফের একই নেশায় মেতে ওঠে। বর্তমানে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে বাকি চুরির কিনারা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিনোদনের ছলে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানানো সেই ‘বিহারি বাবু’র দৌড় শেষ পর্যন্ত জেল হেফাজতেই গিয়ে ঠেকল।