আজকাল ওয়েবডেস্ক: নীরবে কিন্তু বড় পদক্ষেপে মহাকাশ গবেষণায় ইতিহাস তৈরি করল ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা শুরু করেছে ভারতের নিজস্ব স্থায়ী মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ।
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপিত এই মহাকাশ স্টেশন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভারতীয় সংস্করণ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ সূত্রে জানা গেছে, ইসরোর বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার ইতিমধ্যেই ভারতীয় সংস্থাগুলিকে এই মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল নির্মাণে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
মহাকাশে স্থায়ীভাবে মানুষকে রেখে দেওয়ার লক্ষ্যে এটা ভারতের প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণ করা হবে ২০২৮ সালে। ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকরী মহাকাশ স্টেশন গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ইসরো একটি এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট জারি করে ভারতীয় এয়ারোস্পেস উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে এই স্পেস স্টেশনের প্রথম মডিউলের দুটি সম্পূর্ণ কাঠামো নির্মাণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এই মডিউলই ভবিষ্যতের ভারতীয় স্পেস স্টেশনের মূল ভিত্তি হবে। গগনযান মানব মহাকাশ অভিযানের পর এটিকেই পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে দেখছে ইসরো।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত কেবল মহাকাশচারী পাঠানো নয়, বরং মহাকাশে বসবাস ও কাজ করার যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। ইসরোর মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে উন্নত গবেষণা এবং ভবিষ্যতের আরও উন্নত মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে সাহায্য করবে।
প্রথম ধাপে ২০২৮ সালে একটি মডিউল কক্ষপথে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ মহাকাশ স্টেশনে রূপান্তর করা হবে। তবে এই মডিউল নির্মাণ কোনও সাধারণ কাজ নয়।
প্রতিটি মডিউলের ব্যাস হবে ৩.৮ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৮ মিটার। এগুলি তৈরি হবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় দিয়ে। যেহেতু ভবিষ্যতে মহাকাশচারীরা এই মডিউলের ভিতরেই বসবাস ও কাজ করবেন, তাই গগনযান মিশনের মতোই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণমান বজায় রাখতে হবে।
ইসরো চায়, উৎক্ষেপণের আগে পৃথিবীতেই এই মডিউলের দুটি সম্পূর্ণ সেট নির্মিত হোক। এই কাজের জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল প্রযুক্তি।
সংস্থাগুলিকে বিশেষ ধরনের ওয়েল্ডিং ও ফ্যাব্রিকেশন কৌশল তৈরি করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রের জন্য এখনও পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে জটিল এয়ারোস্পেস উৎপাদন প্রকল্পগুলির একটি।
ইসরো স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ভারতীয় উদ্যোগ। পরিকাঠামো তৈরির জন্য কোনও সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না, ওয়েল্ডিং বা চূড়ান্ত সংযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আউটসোর্স করা যাবে না, এবং প্রতিটি ধাপে ইসরোর কড়া নজরদারি ও অনুমোদন থাকবে।
