আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজ চাষিদের চোখে এখন শুধুই জল, তবে তা পেঁয়াজ কাটার জন্য নয়, বরং ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রপ্তানি বন্ধ, আর অন্যদিকে অকাল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পড়ে কার্যত দিশেহারা মারাঠা মুলুকের হাজার হাজার কৃষক। ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও লাভের বদলে এখন বিঘার পর বিঘা জমিতে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ, আর বাজারে মিলছে না উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও।

চলতি বছরে মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজের ফলন ছিল চোখে পড়ার মতো। গত বছরের তুলনায় হেক্টর প্রতি উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫,০০০ কেজিতে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইরানের মতো দেশগুলোতে রপ্তানির পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। জওহরলাল নেহেরু বন্দরে আটকে রয়েছে প্রায় ১৫০টি কন্টেইনার। রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫,০০০ কুইন্টাল পেঁয়াজ এখন বন্দরেই পচছে। বিদেশের বাজার বন্ধ হওয়ায় সেই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ এখন স্থানীয় বাজারে উপচে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।

বাজারের চিত্রটা আরও করুণ। যেখানে এক কুইন্টাল পেঁয়াজ ফলাতে কৃষকদের খরচ হয়েছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা, সেখানে পাইকারি বাজারে (মাণ্ডি) সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ, লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, পকেটের কড়ি খরচ করে চাষ করা ফসল বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার বাফার স্টক বা মজুত ভাণ্ডার থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ায় দাম আরও পড়ে গেছে। 

প্রকৃতিও যেন এবার মুখ ফিরিয়েছে কৃষকদের থেকে। নাসিক, মারাঠওয়াড়া এবং উত্তর মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অকাল বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টিতে মাঠের ফসল মাঠেই মারা গেছে। কোথাও জল জমে খেত নষ্ট হয়েছে, আবার কোথাও গুদামে রাখা পেঁয়াজের ৪০ শতাংশই পচে গেছে। নাসিকের এক কৃষক আক্ষেপ করে বললেন, "এবার ভেবেছিলাম গত বছরের দেনা শোধ করব, কিন্তু এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

এই সংকটের মোকাবিলায় মহারাষ্ট্র রাজ্য পেঁয়াজ চাষি সংগঠন সরব হয়েছে। তারা সরকারের কাছে 'মার্কেট ইন্টারভেনশন স্কিম' বা বাজার হস্তক্ষেপ প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়েছে যাতে দাম স্থিতিশীল করা যায়। সঠিক সময়ে ক্ষতিপূরণ না পেলে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। যদিও রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন এবং রাজস্ব দপ্তর ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু সেই টাকা কৃষকদের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আদৌ কতজন টিকে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। যে মরসুমটি লাভের হওয়ার কথা ছিল, প্রশাসনিক উদাসীনতা আর প্রকৃতির রোষে তা এখন কৃষকদের কাছে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।