আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এক বড়সড় উদ্বেগের চাপ তৈরি করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, ভারতের বিদেশি ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেছে। গত ২৯ জুন প্রকাশিত আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ মাসের তুলনায় ভারতের বিদেশি ঋণ ২৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৭৬২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। শুধু ঋণের অঙ্কই বাড়েনি, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) তুলনায় ঋণের যে অনুপাত, তাও ১৯.৮% থেকে বেড়ে ২০.৮%-এ গিয়ে ঠেকেছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় টাকার তুলনায় মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে মূল্যায়ন প্রভাব (valuation effect) তৈরি হয়েছে, তার ফলেই ঋণের অঙ্কটা ২৬.৩ বিলিয়ন ডলারে আটকে আছে। যদি এই ডলারের দাম বাড়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া যেত, তবে ভারতের আসল ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৫১.০ বিলিয়ন ডলার। এই মুহূর্তে ভারতের বিদেশি ঋণের সিংহভাগই রয়েছে মার্কিন ডলারে, যার পরিমাণ মোট ঋণের প্রায় ৫৫.৫%। এর পরেই রয়েছে ভারতীয় টাকা (২৯.৪%), জাপানি ইয়েন (৬.৪%), এসডিআর (৪.৩%) এবং ইউরো (৩.৭%)। এই বিপুল ঋণের মধ্যে এক বছরের বেশি মেয়াদের দীর্ঘকালীন ঋণও এক ধাক্কায় ১১.৬ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৩.৫ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে এক বছর বা তার কম মেয়াদের স্বল্পমেয়াদি ঋণের ভাগও আগের বছরের তুলনায় বেড়ে ১৯.৬% হয়েছে।
এই বিদেশি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ঘাটতি নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। এর আগে বিভিন্ন রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, দেশের নমিনাল জিডিপি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব ঋণ-টু-জিডিপি অনুপাতও বাজেটের অনুমানের (৫৬.১%) চেয়ে বেশি বেড়ে প্রায় ৫৭.৮৫%-এ পৌঁছে যেতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই নতুন পরিসংখ্যান স্বাভাবিকভাবেই দেশের সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে যে, বিশ্ববাজারের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ জিডিপির মন্থর গতির কারণে আগামী দিনে দেশের আমজনতার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কতটা বাড়তে চলেছে।















