আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়। সেই সময়ে পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহু মানুষ ভারতে এসেছিলেন। দেশভাগের সময়ে এ দেশে আসা মানুষগুলো শরণার্থী ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন ‘সংগ্রামের যোদ্ধা’। এমনই মনে করেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-র প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর কথায়,তথাকথিত উদ্বাস্তুরা মাতৃভূমি ও ধর্মের প্রতি ভালোবাসার কারণে অশেষ কষ্ট ও যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন।
সংঘ প্রধানের দাবি, সীমান্ত পেরনো মানুষগুলো নবগঠিত পাকিস্তানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিজের হাতে গড়ে তোলা ও লালন করা নিজেদের সম্পদ, জমি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
১ জুলাই নাগপুরে সিন্ধি সম্প্রদায়ের পরিচালিত সংগঠন ‘সিন্ধু এডুকেশন সোসাইটি’-র ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন মোহন ভাগবত। সেখানেই আরএসএস প্রধান বলেন, দেশভাগের পর মানুষ সচেতনভাবেই ওপার থেকে ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কারণ তাঁরা এমন এক ভূমিতে (অর্থাৎ ভারতে) বাস করতে চেয়েছিল যেখানে তারা নির্ভয়ে নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারবেন।
মোহন ভাগবত বলেন, “তারা বাস্তুচ্যুত হয়লেও শরণার্থী ছিলেন না। দেশ ভাগের সময়ে এদেশে আসা মানুষদের ‘শরণার্থী’ হিসাবে দেগে দেওয়া হয়, যা আদতে ভুল। তারা ছিলেন যোদ্ধা (সংগ্রামরত যোদ্ধা), যারা মাতৃভূমি ও নিজেদের বিশ্বাসের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে সংগ্রাম করেছিলেন। তারা একটি লড়াইয়ে হেরেছিলেন, তবে এতে তাদের নিজেদের দোষ ছিল না,”
ভাগবত জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা সবাই মিলে ভারতকে ঐক্যবদ্ধ রাখার লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কী বেছে নিয়েছিলেন? তারা পেশা বা সম্পদকে বেছে নেননি। তারা দেশ ও নিজেদের ধর্মকেই বেছে নিয়েছিলেন।”
আরএসএস প্রধান সিন্ধু এডুকেশন সোসাইটির ৭৫ বছরের যাত্রার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের মাইলফলক কোনও প্রতিষ্ঠানের কাজের পর্যালোচনা এবং এর লক্ষ্যগুলোকে স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়।
জীবনের কঠিন পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি বা ভাগ্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়া উচিত নয়। যে ব্যক্তি (কঠিন সময় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য) প্রচেষ্টা চালায়, শেষ পর্যন্ত সেই সফল হয়। আর যে ব্যক্তি কঠিন পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যায়, সে আগেই পরাজয় মেনে নেয়।”
সংঘ প্রধানের দাবি, বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য যাচাইয়ের ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষা অপরিহার্য। ভাগবত জোর দিয়ে বলেন যে, এ ধরনের শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তক থেকেই আসে না, বরং তা আসে শিক্ষকদের আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁরা যেসব মূল্যবোধ সঞ্চারিত করেন, তার মাধ্যমে।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হল ভাল মানুষ এবং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা সমাজের কল্যাণের বিষয়ে সচেতন।















