আজকাল ওয়েবডেস্ক: কারাকাসে দ্রুত বদলে যেতে থাকা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত সরকার ভেনেজুয়েলা নিয়ে একটি ট্রাভেল অ্যাডভাইসরি জারি করলেও, এখনো পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে ভারতীয় নাগরিকদের সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় সফর এড়িয়ে চলতে জোরালোভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় আছেন, তাঁদেরকে চরম সতর্কতা অবলম্বন, চলাচল সীমিত রাখা এবং নিয়মিতভাবে কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অ্যাডভাইসরিতে দূতাবাসের জরুরি যোগাযোগের বিস্তারিতও জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় থাকা ভারতীয়রা প্রয়োজনে cons.caracas@mea.gov.in ই-মেল ঠিকানায় অথবা +58-412-9584288 নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ কল) যোগাযোগ করতে পারবেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিজ্ঞপ্তিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলির ভূমিকা নিয়ে কোনও সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা, সরকার পরিবর্তন সংক্রান্ত দাবি ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক চললেও, নয়াদিল্লি এখনো পর্যন্ত সেই বিষয়ে নিরপেক্ষ নীরবতা বজায় রেখেছে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভারতের এই অবস্থান ইচ্ছাকৃতভাবে সতর্ক ও সংযত। পশ্চিম এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ থাকলেও, বর্তমান সংকটকে ঘিরে দিল্লি প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার বদলে নাগরিক সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অতীতে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত কোনও পক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে দাঁড়াতে চাইছে না বলেই ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রাভেল অ্যাডভাইসরি একদিকে যেমন সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে ভারতের ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ কৌশলকেও স্পষ্ট করছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়লেও, ভারত আপাতত সরাসরি প্রতিক্রিয়ার পথ এড়িয়ে কেবল মানবিক ও নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্নটিকেই সামনে রাখছে।
