আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্স তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তুত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী ও ভেটেরান্স বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে ষষ্ঠ বার্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপের সহ-সভাপতিত্ব করবেন। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে এবং বিশেষ গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা উৎপাদন। 


কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশ আরও এক দশকের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নবীকরণ করতে পারে। পাশাপাশি, ফ্রান্সের তৈরি হাই-প্রিসিশন ক্ষেপণাস্ত্র হ্যামার যৌথভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারতীয় সেনা ও ফরাসি ল্যান্ড ফোর্সেস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক অফিসার মোতায়েন নিয়েও আলোচনা হবে, যা যৌথ প্রস্তুতি ও অপারেশনাল শিক্ষাকে আরও গভীর করবে।


হাই অ্যাজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ বা হ্যামার, ফ্রান্সের তৈরি একটি আধুনিক, সব আবহাওয়ায় কার্যকর স্মার্ট এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিউনিশন। এটি মূলত রাফাল যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। হ্যামার একটি গাইডেন্স কিট ও স্ট্যান্ডার্ড বোমা বডির সমন্বয়ে গঠিত, যা অত্যন্ত নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। এতে জিপিএস, ইনফ্রারেড ও সেমি-অ্যাকটিভ লেজারসহ একাধিক গাইডেন্স মোড রয়েছে, ফলে স্থির বা চলমান লক্ষ্যবস্তুতে কঠিন পরিস্থিতিতেও আঘাত হানা সম্ভব।


ভারতের অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন হ্যামারের ব্যবহার এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে। এর মডুলার স্থাপত্য বিভিন্ন অপারেশনাল প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া যায়। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বিমানকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্ট্যান্ড-অফ হামলার সুযোগ দেয়। সংস্থার দাবি, বাস্তব যুদ্ধে এর সাফল্যের হার ৯৯ শতাংশ।


হ্যামার একসঙ্গে তিন ধরনের গাইডেন্স কিট সংযুক্ত করতে পারে। মিশনের প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাতের কোণ ও গতি নির্ধারণ করা যায়। এমনকি জিএনএসএস-বিহীন পরিবেশেও এটি কার্যকর থাকে এবং একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে নিখুঁত হামলা চালাতে পারে।


ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগিতার পাশাপাশি, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯৬টি বিমান ভারতে উৎপাদন এবং বাকি বিমান ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এটি ভারতের দেশীয় এরোস্পেস উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ।


এছাড়া, কর্নাটকের ভেমাগালে লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারের ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যুনুয়েল ম্যাক্রো। 
উল্লেখ্য, ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের অন্যতম স্তম্ভ। ‘শক্তি’, ‘বরুণ’ ও ‘গরুড়’সহ বিভিন্ন যৌথ মহড়া নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়, যা দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করে তুলছে।