আজকাল ওয়েবডেস্ক: সঙ্কটের সময় মাত্র সাড়ে ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো অশোধিত তেল রয়েছে দেশে। একটি আরটিআইয়ের উত্তরে এই কথা জানাল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের ফলে বিশ্বে তেলের জোগান ব্যাহত হয়েছে। বন্ধ হরমুজ প্রণালী। প্রভাবিত হয়েছে ভারতও। গত কয়েকদিন একটি প্রশ্ন সকলকে চিন্তায় ফেলেছে যে ভারতে ঠিক কত দিনের তেলের মজুদ রয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র করা একটি আরটিআই প্রশ্নের জবাবে পাওয়া উত্তর অনুযায়ী, ভারতের কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের মজুদ পূর্ণ ক্ষমতায় মাত্র সাড়ে নয় দিনের চাহিদা মেটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান মজুদের পরিমাণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে প্রকৃত মজুত এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সোমবার রাজ্যসভায় পেশ করা তথ্য অনুয়ায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ৩৩.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে। যা মোট ধারণক্ষমতার ৫৩.৩ লক্ষ মেট্রিক টনের প্রায় ৬৪%। যা থেকে বোঝা যায়, বর্তমানে দেশের তেলের মজুদ ৯.৫ দিনের চেয়ে অনেক কম।
কৌশলগত তেলের ভান্ডার সরকারের অপরিশোধিত তেলের জরুরি মজুত। যা দেশকে সরবরাহ বিঘ্ন বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করার জন্য গড়ে তোলা হয়। সংঘাত বা সরবরাহ সঙ্কটের মতো সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এগুলি ব্যবহার করা হয়। ধারণ ক্ষমতা ও প্রকৃত মজুদের মধ্যেকার ব্যবধানটি এই সময়ে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার কারণে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই অঞ্চল থেকেই আসে।
আরটিআই-এর জবাবে বলা হয়েছে যে, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) কর্মসূচিটি ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুমোদিত হয়েছিল এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য ২০০৪ সালের ১৬ জুন ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড (আইএসপিআরএল) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভারতের তিনটি অশোধিত তেল মজুত করার ভান্ডার রয়েছে। একটি বিশাখাপত্তনমে (১৩.৩ লক্ষ মেট্রিক টন), দ্বিতীয়টি ম্যাঙ্গালুরুতে (১৫ লক্ষ মেট্রিক টন) এবং তৃতীয়টি পাদুরে (২৫ লক্ষ মেট্রিক টন)।
আরটিআইয়ে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্র ২০২১ সালের জুলাই মাসে এসপিআর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়েছে। দু’টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একটি ওড়িশার চণ্ডিখোলে। ধারণ ক্ষমতা ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন এবং অপরটি কর্ণাটকের পাদুরে অতিরিক্ত ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। এই দু’টি ভান্ডার তৈরি হয়ে গেলে দেশে আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন তেল মজুত করা যাবে।
এই ভান্ডারগুলি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে প্রস্তাবিত হলেও এখনও চালু হয়নি। প্রকল্পগুলি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং বর্তমান মজুত পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায়, ভারতের কৌশলগত তেল মজুদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
