আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিমানের অন্তত ৬০ শতাংশ আসন অতিরিক্ত টাকা না দিয়েই পছন্দ করতে পারবেন যাত্রীরা। গত বুধবারই বাধ্যতামূলকভাবে এই নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্দেশিকা জারি করে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে একাধিক বিমান সংস্থা। এই পদক্ষেপের ফলে অচিরেই বিমান ভাড়া বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে বিমান সংস্থাগুলো।

ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ (এফআইএ)-এর পক্ষ থেকে অসামরিক বিমান চলাচল সচিব সমীর সিনহার কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তারা এই নির্দেশিকার আর্থিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিমান সংস্থাগুলোর মতে, এই নির্দেশিকা তাদের আয়ের একটি প্রধান উৎসে আঘাত হানবে, । যার ফলে লোকসান পুষিয়ে নিতে সংস্থাগুলো যাত্রীদের কাছ থেকেই বাড়তি অর্থ আদায় করতে বাধ্য হবে।

এফআইএ চিঠিতে উল্লেখ করেছে, “বিমান সংস্থাগুলোর ওপর এই নির্দেশিকার আর্থিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এর ফলে সংস্থাগুলো তাদের হারানো রাজস্ব ভাড়াবৃদ্ধির মাধ্যমেই পুষিয়ে নিতে বাধ্য হবে।” তারা আরও জানিয়েছে যে, যদিও এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের সুবিধা দেওয়া, তবুও শেষ পর্যন্ত তা "হিতে বিপরীত" বা অকার্যকর বলে প্রমাণিত হতে পারে।

বেসরকারি বিমান সংস্থাগুোলর সংগঠনের তরফে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এফআইএ বিষয়টিকে “বিমান পরিচালনার বাণিজ্যিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অত্যধিক হস্তক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনের যুক্তি, ভাড়ার হার নির্ধারণ ও আসন বণ্টন সম্পূর্ণভাবে ব্যবসার অভ্যন্তরীণ বা মূল সিদ্ধান্ত।

সংগঠনটি, অসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিচালকের (ডিজিসিএ) বিমান ভাড়ার বিভিন্ন উপাদান এবং ‘আনবান্ডলড সার্ভিস’ (বিমানের মূল ভাড়ার বাইরে প্রদত্ত অতিরিক্ত পরিষেবা) - যেমন পছন্দের আসন নির্বাচন বা অতিরিক্ত লাগেজ বহন - নিয়ন্ত্রণ করার এখতিয়ার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আদালতের আগের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে এফআইএ বলেছে, “আনবান্ডলড বা অতিরিক্ত পরিষেবাগুলোর জন্য মাশুল নির্ধারণ বা তার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার কোনও এখতিয়ার ডিজিসিএ-এর নেই।”

এছাড়াও বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, আসন নির্বাচনের সুযোগ বিনামূল্যে করে দেওয়াটা আপাতদৃষ্টিতে সুবিধাজনক মনে হলেও, এর সামগ্রিক প্রভাব নেতিবাচক হতে পারে।

এফআইএ-এর যুক্তি, “ভাড়া বেড়ে গেলে যাত্রীদের পছন্দের সুযোগ এবং বিমান ভ্রমণের সামর্থ্য - বিশেষ করে যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, সপরিবারে ভ্রমণ করেন কিংবা স্বল্প বাজেটে ভ্রমণকারী যাত্রী - তাদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।” তারা আরও যোগ করেছে যে, সব বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে আসন বণ্টনের নিয়মকে একই ছাঁচে ফেলার ফলে পরিষেবার বৈচিত্র্য বা স্বকীয়তা নষ্ট হবে, এর ফলে যাত্রীরা তাদের নিজস্ব পছন্দ বা প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান সংস্থা বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

উড়ান সংস্থাগুলোর সংগঠেনর দাবি, এই নির্দেশিকা জারির আগে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। তারা বলেছে, “২০২৬ সালের ১৮ মার্চ প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির আগে সদস্য বিমান সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশিকার বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি।” আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আগে থেকে কোনও আলোচনাই করা হয়নি।

বিমান সংস্থাগুলো বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন বর্তমান বিধিবিধানের আওতায় এই নির্দেশিকাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এফআইএ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এই নিয়মটি কার্যকর করা হলে তা ভবিষ্যতে বিমান ভাড়ার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও গভীর ও ব্যাপক হস্তক্ষেপের একটি নজির বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। চিিতে উল্লেখ রয়েছে, “যদি এই পদক্ষেপটি কার্যকর করা হয়, তবে ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধের বিষয়ে বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে।” সংগঠনের তরফে সরকারকে উড়ান শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় নতুন সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।