আজকাল ওয়েবডেস্ক: আধুনিক আকাশযুদ্ধের চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এক সময় যেখানে ডগফাইট—অর্থাৎ কাছাকাছি দূরত্বে মুখোমুখি লড়াই—বিমান শক্তির আসল পরীক্ষা হিসেবে ধরা হতো, এখন সেখানে স্টেলথ প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রই নির্ধারণ করছে বিজয়-পরাজয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত তার ভবিষ্যৎ বিমানবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে পঞ্চম প্রজন্মের রুশ যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে সুখোই সু ৫৭–এর দিকে নজর দিচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা হয়েছে।


পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের মূল বৈশিষ্ট্য হল রাডারে কম দৃশ্যমানতা বা স্টেলথ, উন্নত অ্যাভিওনিক্স, সুপারক্রুজ ক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমৃদ্ধ সেন্সর ফিউশন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিমান শত্রুর রাডারে ধরা না পড়েই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ফলে প্রচলিত ডগফাইটের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে এসেছে। দূর থেকে শত্রুকে শনাক্ত করে প্রথম আঘাত হানাই এখন কৌশলগত সাফল্যের চাবিকাঠি।


ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বহরে আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বহরে রয়েছে রাফালে, সুখোই এবং দেশীয়ভাবে নির্মিত তেজস।। তবে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে চীন তাদের পঞ্চম প্রজন্মের বিমান মোতায়েন করার পর, ভারতের ওপরও সমান মানের ক্ষমতার জন্য চাপ বেড়েছে।


রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা সু-৫৭ রপ্তানিতে আগ্রহী। অতীতে ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করলেও নানা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক কারণে সেই উদ্যোগ এগোয়নি। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশে বিষয়টি আবারও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি সু-৫৭ অধিগ্রহণ করে, তবে তা কেবল আকাশ প্রতিরক্ষায় নয়, কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতায়ও বড় ভূমিকা রাখবে। স্টেলথ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শত্রু অঞ্চলের গভীরে প্রবেশ করে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এটি ভবিষ্যৎ দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচির জন্য প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জনেও সহায়ক হতে পারে।


তবে এই সিদ্ধান্ত সহজ নয়। পঞ্চম প্রজন্মের বিমান কেনা মানে বিপুল অর্থব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রশ্ন। তাছাড়া, পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্কও বিবেচনায় রাখতে হবে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সব দিকই পর্যালোচনা করা হবে।




সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে স্টেলথ প্রযুক্তি যখন প্রাধান্য পাচ্ছে, তখন ভারতও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ডগফাইটের যুগ হয়তো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, কিন্তু আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ যে স্টেলথ ও তথ্য-নির্ভর কৌশলের ওপর নির্ভরশীল—তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।