আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৮ বছরের নিচে নাবালক ভোটার! এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সোলাপুরের একটি বুথে। সেখানে ১৪ বছরের এক কিশোরের ভোট দেওয়ার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, গত শনিবার ভোট চলাকালীন আকলুজের যশবন্ত নগরের একটি বুথে বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে ইভিএম-এর বোতাম টিপে দেয় ওই নাবালক।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, প্রার্থী অর্জুন সিংহ মোহিত পাটিলের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে রয়েছে তাঁর ছেলে। কিশোরটি যখন বোতাম টিপছে, তখন পাশেই ছিলেন বাবা। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। যদিও মোহিত পাটিলের দাবি, তাঁর ছেলে কেবল ভোট দেওয়ার পদ্ধতি দেখতে চেয়েছিল। ভোটকর্মীদের অনুমতি নিয়েই তিনি ছেলেকে পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন বলে সাফাই দিয়েছেন এই প্রার্থী।

ভারতে ১৮ বছরের নিচে ভোট দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুথের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারেন নির্বাচনী আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্য একটি জায়গাতেও এক বিধায়ক তাঁর নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিয়েছেন বলে খবর মিলেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় বুথের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে প্রশাসন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ 

অন্যদিকে, ক্লাসরুমের ভিতরেই খুন৷ পাঞ্জাবের তরণ তরণ জেলায় একটি ল কলেজের ক্লাসরুমের ভিতরেই  হাড়হিম এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরই চারিদিকে ব্যাপক শোরগোল। সোমবার প্রথম বর্ষের এক ছাত্র তাঁর এক সহপাঠিনীকে গুলি করে খুন করার পর নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ছাত্রের নাম প্রিন্স রাজ। উসমা গ্রামের ওই কলেজের একটি ক্লাসরুমে লেকচার শুরু হওয়ার ঠিক আগেই তিনি প্রবেশ করেন। কোনওরকম প্ররোচনা বা আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই আচমকা পকেট থেকে পিস্তল বের করে ছাত্রীর মাথায় লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। এর কিছু সময় পরই একই অস্ত্র দিয়ে নিজেকেও গুলি করেন প্রিন্স। খবর অনুযায়ী, ছাত্রীর নাম সন্দীপ কৌর। 

এক সাক্ষাৎকারে ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ জগবীর সিং জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে সন্দীপের। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রিন্সকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’জনেই ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের দাবি, এর নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য তা খতিয়ে দেখতে একাধিক দিক থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেন্সিক দল পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত পড়ুয়া ও কর্মীদের বয়ান নথিভুক্ত করার পাশাপাশি কলেজের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

সেই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ক্লাসরুমের একটি বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎই কাছে বসে থাকা এক ছাত্রীকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি চালাচ্ছেন যুবক। ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে ক্লাসরুমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়,  অন্য পড়ুয়ারা প্রাণভয়ে হুলস্থুল করে বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন।