আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহিলাদের ভোট ব্যাঙ্ক গুছিয়ে নিচ্ছে তামিলনাড়ু। দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম দলের নেতা ঘোষণা করেন, মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এবং ঘরকন্নার জন্য বাড়তি একটি বড় অঙ্কের টাকা প্রতি মাসে দেওয়া হবে। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মহিলারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, এবং মহিলা ভোটারদের ভোট পাকাপোক্ত করা হচ্ছে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান নির্বাচনগুলিতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে 'মহিলা ভোটার'। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাই মহিলা ভোটারদের ভোট নিজেদের ঝুলিতে আনার জন্য বাড়তি সুবিধা প্রদান করছে। আনছে নতুন নতুন ভাতা, দিচ্ছে অনেক প্রতিশ্রুতি। যেন মহিলা ভোট নিজের দিকে টানতে পারলেই কেল্লা ফতে। 

শুধু তামিলনাড়ু নয়, এই একই পথে হেঁটেছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও কেরলও। ব্যাঙ্কে সরাসরি টাকা পাঠানো এখন রাজ্য রাজনীতিতে এক অতি পরিচিত ধাঁচ। এই সরাসরি ভাতা দিয়ে সাহায্য করার মতো ঘটনাকে রাজনৈতিক দলগুলি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে, তেমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। 

তামিলনাড়ুর শাসকদল প্রতি মাসে সংসারের খরচবাবদ পরিবারের মহিলাদের হাতে দিচ্ছে ১০,০০০ টাকা করে। ফলে ভোটের পরিণতি কী হতে চলেছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এদিকে বিরোধী দলের দাবি সরকারে এলে তারা প্রতি মাসে প্রতি ঘরে ১০,০০০ টাকার অনুদান দেবেন। এবং পাশাপাশি সরকারি যানবাহনে চলাফেরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যের করে দেবে, যাতে সাধারণ মানুষের আরও একটু বেশি সুবিধা হয়। শুধু তাই নয়, বিরোধী আরও দাবি করে যে ঘরের জ্বালানিও সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হবে, এবং মহিলাদের হাতে ভাতার পরিমাণ ২০০০ এর পরিবর্তে ২৫০০ করে দেবে এবং মেয়ের বিয়ের সময়ে গয়নাও পাওয়া যাবে বিনামূল্যে। 

পশ্চিমবঙ্গের চিত্রও একই। দুই প্রধান দল মহিলাদের কত করে ভাতা প্রতি মাসে দেবে সে নিয়েই চলছে মূল ভোটের প্রচার। বিজেপির দাবি অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মহিলাদের মাসে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। নিজের ঘরে ভোট টানার জন্য মূলত সেই নীতিই অবলম্বন করতে চলেছে গেরুয়া  শিবির। এদিকে বাংলার শাসক দল মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে, পাশাপাশি যুবসাথী প্রকল্পে রাজ্যের বেকার যুবকদের দিচ্ছে মাসে মাসে ১৫০০ টাকা। ভোটের বাজারে লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিমাণ আরও বাড়াচ্ছে শাসক দল। 

অসমের দৃশ্যটা একটু অন্যরকম। সরাসরি ব্যঙ্কে টাকা পাঠানোর পরিবর্তে নতুন ব্যবসা করতে চান যে মহিলারা তাঁদের জন্য দিচ্ছে ৫০,০০০ টাকা। মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে শাসক দলের দাবি। পাশাপাশি রাজ্যের হস্তশিল্পকেও দেশের তথা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার একটা প্রচেষ্টা করা হচ্ছে এই অর্থসাহায্যের মাধ্যমে। 

অসমের শাসক দল একেবারেই মহিলাদের ব্যাঙ্কে সরাসরি টাকা দিচ্ছে না এমনটা নয়। যে সমস্ত মহিলাদের বার্ষিক উপার্জন দারিদ্রসীমার নীচে, তাঁদের ব্যাঙ্কে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা সাহায্য দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে স্বনীর্ভর গোষ্ঠীর মতো মহিলারদের গোষ্ঠী। এতে মহিলারা লোন নিতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে কম সুদের হারে তা ফিরিয়ে দিতে পারবেন। 

কেরল অবশ্য সরাসরি টাকা দেওায়ার ধারপাশ দিয়েও যায়নি, বরং মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সরকারি পরিবহণে ছাড় আর বার্ধক্য ভাতার মতো নানান যোজনা তালিকায় যুক্ত করেছে। মহিলাদের সামগ্রিক জীবন যাপনে স্বচ্ছলতা যাতে আসে সেই ব্যবস্থাই কেরলের সরকার করেছে। 

এই চারটি রাজ্যে, মহিলাকেন্দ্রিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ১০ কোটি মহিলা। তামিলনাড়ুতে প্রায় ৩.১ কোটি, পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যাটা ৩.৭ কোটি, কেরলে ৫১.২ কোটি আর অসমে ১.২ কোটি। শতাংশের হিসাবে রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক।