আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে রক্তেরই সম্পর্ক রাতারাতি শত্রুতে বদলে যায়৷ আমাদের সমাজে এই ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বাবার সম্পত্তিতে ছেলের অধিকার নিয়ে যতখানি স্পষ্টতা থাকে, মেয়ের অধিকারের প্রসঙ্গে উঠলেই ততখানিই ধোঁয়াশা আর বিবাদ দানা বাঁধে। 

কোনও ব্যক্তি যদি উইল না রেখেই মারা যান, তবে কি তাঁর বিবাহিত মেয়ে সম্পত্তির ভাগ পাবেন? আইন কী বলছে? আর সেই অধিকার আদায়ে আইনি পথটাই বা কী?

১৯৫৬ সালের মূল হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তির বন্টনে ছেলেদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনে এক ঐতিহাসিক সংশোধন আনে। 

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বাবার সম্পত্তিতে ছেলের মতই সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে মেয়েকেও। এখানে মেয়ে বিবাহিত নাকি অবিবাহিত- সেই প্রশ্ন অবান্তর। বিবাহিত হওয়ার পরেও একজন নারী তাঁর বাবার সম্পত্তিতে আইনি অংশ দাবি করতে পারেন।

পরবর্তীকালে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ২০০৫ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কন্যা জন্মসূত্রে বাবার সম্পত্তির অংশীদার। আইন কার্যকরের সময় বাবা বেঁচে ছিলেন কি না, তা এই অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না।

পৈতৃক সম্পত্তি বন্টনের কোনও উইল না করেই যদি কোনও ব্যক্তি মারা যান, তবে আইনত তা 'উইলবিহীন মৃত্যু' হিসেবে গণ্য হয়। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, সম্পত্তির ওপর প্রথম অধিকার থাকে 'প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী' বা ক্লাস-১ লিগ্যাল হেয়ারদের।

মৃত ব্যক্তির স্ত্রী,ছেলে এবং মেয়েরা এই প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারীর অন্তর্ভুক্ত। নিয়ম অনুযায়ী, সম্পত্তি এঁদের সকলের মধ্যে সমান ভাগে বিভক্ত হবে। 

ধরা যাক, কোনও ব্যক্তির পরিবারে তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছেন। সম্পত্তি সমান তিন ভাগে ভাগ হয়ে তিনজনের কাছেই যাবে। বিবাহিত মেয়েও এখানে ভাইয়ের সমান অংশ পাবেন।

ভাই বা পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি বিবাহিত বোনকে তাঁর প্রাপ্য অংশ দিতে অস্বীকার করেন, তবে আইনসম্মতভাবেই সেই অধিকার আদায় করা সম্ভব। 

এক্ষেত্রে প্রথমে বাবার মৃত্যু শংসাপত্র জোগাড় করতে হবে। এরপর তহসিলদার বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যালয় থেকে পরিবারের সব সদস্যের নাম থাকা আইনি উত্তরাধিকারী শংসাপত্র তুলতে হবে, যেখানে মেয়ের নাম থাকা বাধ্যতামূলক।

যদি ঘরোয়া আলোচনায় বা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সম্পত্তি ভাগ করতে পরিবার রাজি না হয়, তবে মেয়ে আদালতে সম্পত্তি ভাগ দায়ের করতে পারেন। আদালত সমস্ত নথি ও উত্তরাধিকার খতিয়ে দেখে মেয়েকে তাঁর বৈধ অংশ বুঝিয়ে দেবে।

বাবা নিজের উপার্জনে যে সম্পত্তি কেনেন, তার ওপর তাঁর একক অধিকার থাকে। জীবিত অবস্থায় বাবা যদি সেই স্বোপার্জিত সম্পত্তি কোনও উইল বা দানপত্রের মাধ্যমে ছেলে বা অন্য কাউকে দিয়ে যান, তবে মেয়ের সেখানে আর কোনও আইনি অধিকার থাকে না।

বাবা উইল না করে মারা গেলেই কেবল বিবাহিত মেয়ে সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন। যদি সম্পত্তিটি পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা বা পৈতৃক হয়, তবে সেখানে মেয়ের অধিকার জন্মসূত্রে তৈরি হয়। এই ধরনের সম্পত্তিতে বাবার উইলের সিদ্ধান্তও মেয়ের অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।