আজকাল ওয়েবডেস্ক: জল্পনা ছিল। বুধবার সন্ধেয় সেই জল্পনাতেই সিলমোহর। জানা গেল, কেন্দ্রের জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা বিষয়ক মন্ত্রীগোষ্ঠী (জিওএম) জিএসটি কাউন্সিলের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।  আর তাতে জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা প্রিমিয়ামকে জিএসটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন মন্ত্রীরা। বর্তমানে, স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা প্রিমিয়ামের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য। জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা বিষয়ক মন্ত্রীগোষ্ঠী বৈঠকে বসেছিলেন। তার পরেই এই তথ্য সংবাদ মাধ্যমে জানান বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, যিনি জিওএমের আহ্বায়কও। তিনি জানান, এই প্রস্তাবে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রীরাও একই মতামত জানিয়েছেন। এরপর বাকি সিদ্ধান্ত নেবে জিএসটি কাউন্সিল। 

স্বাধীনতা দিবসের দিন, লাল কেল্লা থেকে বড় ঘোষণা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘোষণা করেন জিএসটি সংস্কারের। ১৫ আগস্ট মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই দিওয়ালিতে, আপনাদের দ্বিগুন-দিওয়ালির কাজ করব আমি। এই দিওয়ালিতে দেশবাসীকে বড় উপহার মিলবে।' তারপরেই বলেন, 'গত আট বছরে আমরা জিএসটির বড় সংস্কার করেছি। গোটা দেশে ট্যাক্স কম করেছি, ট্যাক্স নীতি ব্যবস্থাকে সরল করেছি। আট বছর পর, সময়ের দাবি মেনেই এবার রিভিউ। আমারা হাই-পাওয়ার কমিটি দিয়ে রিভিউ করিয়েছি। রাজ্যগুলির সঙ্গে আলচনা করেছি। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জিএসটি সংস্কার আনতে চলেছি। এই দিওয়ালির মধ্যেই তা দেশবাসীর জন্য উপহার হয়ে আসবে। করের হার অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ উপকৃত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প।'  

?ref_src=twsrc%5Etfw">August 20, 2025

মোদির এই ঘোষণায়, করের বোঝা কমে যেতে পারে কোন কোন দ্রব্যের দাম কমতে পারে? গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা তা নিয়েই। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোদির এই ঘোষণার পর, অর্থাৎ জিএসটি সংস্কারের পর, কমে যেতে পারে মোবাইল, কম্পিউটার, রেডি-মিক্স কংক্রিট এবং সিমেন্ট, জুতো, সেরামিক, টাইলস, জ্যামিতি বক্স গাড়ির দাম। 
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে ভারতে দ্রব্যাদির উপর মোট চারটি ভাগে জিএসটি কার্যকর।  ৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৮ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ।  সূত্রের খবর, চারটি ভাগের মধ্যে, দুটি ভাগ বাতিল করা হতে পারে নয়া নিয়মে। তাতে বাদ যেতে পারে ১২ এবং ২৮ শতাংশের স্ল্যাব। ১২ শতাংশ জিএসটি লাগু হয় এখন যেসব দ্রব্যের উপর, তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ দ্রব্যের উপরে ৫ শতাংশ লাগু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব দ্রব্যের উপর এতদিন ২৮ শতাংশ লাগু হপ্ত, সেগুলির মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ দ্রুব্যের উপরেই ১৮ শতাংশ লাগু হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা বিশেষজ্ঞদের।  এতে একদিকে শুল্ক ঝুঁকি কমার আশা অন্যদিকে এই নয়া জিএসটি নিয়মে চাঙ্গা হতে পারে দেশের অর্থনীতিও।

আরও পড়ুন: ভারতকে সতর্ক করতে গিয়ে মুখ পুড়ল ইউনূস সরকারের! আওয়ামী লিগ ইস্যুতে মোক্ষম জবাব এদেশের

এতদিন স্বাস্থ্যবিমা ও মেয়াদি বিমার প্রিমিয়ামে জিএসটি ছিল ১৮ শতাংশ। এতে প্রিমিয়ামের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। ফলে সমস্যা পড়তে হয় বয়স্ক-বয়স্কা ও যুবক-যুবতীদের। সরকারের কাছে জিএসটি ছাড়ের দাবি জানায় বহু সংগঠন। কিন্তু, অর্থমন্ত্রক এবং জিএসটি কমিটি তা কর্ণপাত করেনি। জিএসটি কাউন্সিল এই আর্জি মেনে নিলে, প্রবীণ-প্রবীণা ও সদ্য সংসার পাততে চলা যুবক-যুবতীদের জন্য বিরাট সুখবর হতে পারে। এছাড়া, জিএসটি হ্রাসের ফলে বিমার প্রতি মানুষের ঝোঁক আরও বাড়বে এবং আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ বিমা ক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন বলে আশা। আখেরে রাজস্ব আদায় আরও মসৃণ হবে বলে অনুমান। যদিও এর ফলে সরকারের বার্ষিক প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে।  স্বাস্থ্য ও মেয়াদি বিমার উপর জিএসটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হলে, বিমা কোম্পানিগুলি ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (আইটিসি) দাবি করার ক্ষমতা হারাতে পারে, ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।