আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ডেরার সাচা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংকে সাংবাদিক হত্যার মামলায় বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। এই রায় সামনে আসার পর দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মামলাটি ছিল সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতিকে কেন্দ্র করে। এই নতুন রায়ের পর আবারও জনমত বিভক্ত হয়েছে। অনেকেই আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের মতে, এই মামলার ঘিরে অনেক ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে।
হরিয়ানার সিরসা শহরের বাসিন্দা রামচন্দ্র ‘পুরা সাচ’ নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন। ২০০২ সালের অক্টোবরে তাঁর উপর গুলি চালানো হয়। নিজের বাড়ির সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা হয় না। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। সেই চিঠির জেরেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। বেনামী সেই চিঠিতে ডেরা সাচা সৌদার ভিতরে নারীদের যৌন শোষণের অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু তা প্রকাশের পর ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিকের উপর চাপ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে তদন্তে অভিযোগ ওঠে যে এই হত্যার সঙ্গে ডেরা প্রধানের ঘনিষ্ঠদের যোগ ছিল।
কী এই ডেরা সাচা সৌদা? এটি আসলে উত্তর ভারতের একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংগঠন। এখানে মূলত আধ্যাত্মিক শিক্ষা, সমাজসেবা এবং মানবকল্যাণের কথা বলা হয়। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনকে ঘিরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এই সংগঠনকে ঘিরে রয়েছে, নারী শোষণের, হিংসা এবং এসবের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও। সংগঠনটি ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
সংগঠনের বর্তমান প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধেও ওঠে গুরুতর অভিযোগ। ২০১৭ সালে দুই নারী শিষ্যাকে ধর্ষণের মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। সেই মামলায় তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ডও সাজা হিসাবে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেলে বন্দি রয়েছেন।
তবে, সাংবাদিক হত্যার মামলায় বেকসুর খালাস হন তিনি। ২০১৯ সালে আদালত তাঁর সঙ্গে তাঁর সহচর আরও চার জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই মামলায়। আদালত তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য সূত্র অনুযায়ী, সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরে অবশেষে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট নতুন রায় দেয়। আদালত প্রমাণের অভাবের কথা উল্লেখ করে সংগঠন প্রধানকে খালাস দেয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।
