আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের আসরে তখন হইহুল্লোড়। একদিকে বিয়ের মন্ত্র উচ্চারণ করছেন পুরোহিত, অন্যদিকে নাচগান, খাওয়াদাওয়ায় ব্যস্ত আত্মীয়স্বজন, নিমন্ত্রিতরা। তখনই ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। বিয়ের মণ্ডপে পাত্রের আচরণে সকলেই হতবাক। পাত্রীর দিকে মন নেই তাঁর। বরং বিরাট কোহলিকে দেখতেই ব্যস্ত তিনি। 

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এই বিয়ের মণ্ডপের একটি ভিডিও। যেখানে দেখা গেছে, জমকালো শেরওয়ানি পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসে আছেন পাত্র। পাশেই বসেই পাত্রী। বিয়ের মন্ত্র পাঠ করছেন পুরোহিত। সিঁদুরদানের সময়েই সকলে হতবাক। বিয়ের মন্ত্র উচ্চারণ তো করছেনই না, এমনকী সিঁদুরদানের সময়েও তাঁর কোনও হেলদোল নেই। 

?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading

একটানা তাকিয়ে আছেন মোবাইলের দিকে। কারণ? সেই সময় বিরাট কোহলি ব্যাটিং করছিলেন। বিয়ের কথা মাথা থেকে যেন সরেই গিয়েছিল তাঁর। পাত্রীর দিকে নয়, চোখ আটকে ছিল বিরাটের ব্যাটিংয়ের দিকে। পাত্রের এহেন কীর্তি দেখে পাত্রীও হেসে ফেলেন। আত্মীয়স্বজনরাও টের পান, পাত্র আদতেই বিরাট কোহলির ভক্ত! যদিও বিরাটের ব্যাটিং দেখেই বিয়ের আচার শেষ করেন পাত্র। 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরাও হেসে লুটোপুটি খান। ক্রিকেট পাগল পাত্রের সঙ্গে অনেকেই নিজের মিল খুঁজে পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, 'উনি সত্যিই কোহলির আসল ফ্যান!' আরেকজন লিখেছেন, 'একেই বলে ক্রিকেট পাগল!' 

গত মে মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। ধুমধাম করে বিয়ের আসর বসেছিল। হুল্লোড়ে মেতেছিলেন আত্মীয় থেকে আমন্ত্রিতরা। বিয়ের অর্ধেক আচার-অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়েও গিয়েছিল। ছ'পাক ঘোরার পর হঠাৎ একটি ফোন আসে পাত্রের ফোনে। এরপরই গাঁটছড়া খুলে ফেলেন তিনি। সাতপাক ঘোরার ঠিক আগের মুহূর্তে জানিয়ে দেন, এই বিয়ে তিনি করবেন না। যা ঘিরে তুমুল শোরগোল গোটা বিয়েবাড়িতে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের করৌলী জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার নাদোতি তালুকে বিয়ের আসরটি বসেছিল। চোখধাঁধানো আয়োজন ছিল সেখানে। ছ'পাক ঘোরার পর পাত্র কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপরই জানিয়ে দেন, তিনি বিয়ে করবেন না। পাত্রের এহেন আচরণে প্রথমে হকচকিয়ে যান সকলে। পাত্রীও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। 

দু'পক্ষের মধ্যে অশান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, পাত্র, তাঁর বাবা ও কয়েকজন আত্মীয়কে আটকে রাখে পাত্রীর পরিবার। বিয়েতে ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তাঁরা। পাত্রের শেষমুহূর্তের সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতি থেকে মানহানিও হয়েছে তাঁদের। সেই ক্ষতিপূরণের দাবি করেন সকলে। 

শেষমেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পঞ্চায়েত সদস্য, পুলিশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করে। কিন্তু তারপরেও অশান্তি থামেনি। পাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সম্ভবত ছ'পাক ঘোরার পর পাত্রকে তাঁর প্রেমিকা ফোন করেছিলেন। সেই ফোন পেয়েই বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর আর সাতপাক ঘোরেননি।