আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্রেটার নয়ডা পুলিশ মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর ঘটনায় ঠিকাদার অভয় কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নলেজ পার্ক থানার পুলিশের একটি দল তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে।
অভয় কুমার নলেজ পার্ক এলাকায় অবস্থিত একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্প এমজে উইশটাউনের মালিক। ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের পরেই এই গ্রেপ্তার করা হয়। ওই খুনের সঙ্গে অভয় কুমার জড়িত বলে অভিযোগ।
শুক্রবার রাতে যুবরাজ গুরুগ্রামের অফিস থেকে গ্রেটার নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর টাটা ইউরেকা পার্কে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময়ে তাঁর দ্রুতগতির গ্র্যান্ড ভিটারা গাড়িটি একটি জলভর্তি গর্তে পড়ে যায়। বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করা সত্ত্বেও এবং তাঁর বাবা রাজকুমার মেহতার উপস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও ওই ইঞ্জিনিয়ার ডুবে মারা যান।
জলের স্তর বেশি থাকায় গাড়িটি উল্টে যায় এবং ভাসতে শুরু করে। যুবরাজ কোনওমতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর বাবা রাজকুমার মেহতাকে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানান। তাঁর বাবা তখনই ডায়াল-১১২-তে খবর দেন এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
স্থানীয়দের মতে, একটি মল নির্মাণের জন্য ওই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু মল তৈরির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই গর্ত পড়েছিল। তখন থেকে বৃষ্টির জল এবং আশেপাশের আবাসিক সোসাইটিগুলোর পয়ঃনিষ্কাশনের জল সেখানে জমা হচ্ছিল।
নিহতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গত রবিবার নলেজ পার্ক থানায় এমজে উইশটাউন প্ল্যানার লিমিটেড এবং লোটাস গ্রিন কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে।
পরিবার অভিযোগ করেছে যে, রাস্তাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও এবং বাসিন্দারা বারবার বিষয়টি নজরে আনা সত্ত্বেও ডেভেলপাররা ব্যারিকেড এবং রিফ্লেক্টরের মতো মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে, ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি জলভর্তি গর্তে গাড়ি পড়ে ২৭ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকার নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও এম লোকেশকে বরখাস্ত করে। উত্তর প্রদেশ ক্যাডারের ২০০৫ ব্যাচের একজন আইএএস কর্মকর্তা লোকেশকে নয়ডা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দ্রুত ঘটনাটি আমলে দেন এবং একটি তিন সদস্যের এসআইটি গঠনের নির্দেশ দেন ও পাঁচ দিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে, মিরাটের বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি তিন সদস্যের এসআইটি গঠন করা হয়।
