আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিবেশী দাদার হাতে ধর্ষণ৷ অন্ধ্রপ্রদেশের মদনপল্লীতে ঘটনাটি ঘটেছে৷ প্রতিবেশী যুবকের হাতে মাত্র সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার অভিযুক্তের বাড়ি থেকেই শিশুটির দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানাজানি হতেই হুলুস্থুল এলাকায়৷
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ওই শিশুটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবার থানায় অভিযোগ জানালে তদন্তে নামে পুলিশ। তল্লাশির সময় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবকের ঘরে একটি ড্রামের ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
কুর্নুল রেঞ্জ ডিআইজি কে প্রবীণ জানান, "প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে খুন করার আগে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরেই আমরা নিশ্চিত হই যে এই অপরাধ প্রতিবেশী যুবকটিই করেছে।"
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় জনরোষ চরমে ওঠে। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে বিশাল ভিড় জমা হয়। এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা এলাকা পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক মদতপুষ্ট কিছু ব্যক্তি এই উত্তেজনাকে আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকী নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। অশান্তি রুখতে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে, টিভিতে ছবি ঠিকমতো আসছিল না। ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে বারবার ‘বাফারিং’ হচ্ছিল। আর সেই সামান্য উত্তেজনা থেকেই ঘটে গেল ভয়ঙ্কর এক ঘটনা। মাত্র ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরের হাতে প্রাণ হারালেন তার ষাটোর্ধ্ব পিসি। মহারাষ্ট্রের বসইয়ের এই ঘটনায় হতবাক পুলিশও।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে ওই কিশোরের এক বন্ধুকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ষাটের ওই মহিলার নাম দুর্গা বনসোদ। বসইয়ের বাড়িতে ভাইপোর সঙ্গেই থাকতেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। পুলিশের দাবি, বাড়িতে স্মার্ট টিভিতে অনুষ্ঠান দেখা নিয়ে পিসির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় ভাইপোর। টিভি কেন ঠিকমতো চলছে না, তা নিয়ে মেজাজ হারায় ওই কিশোর। তখনই দুর্গাদেবী তাকে পড়াশোনায় মন দেওয়ার জন্য বকুনি দেন। সেই রাগ সামলাতে না পেরে হাতের কাছে থাকা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় একের পর এক আঘাত করতে শুরু করে ওই নাবালক। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হয় সোমবার রাতে। দুর্গাদেবীর মেয়ে বারবার মাকে ফোন করেও পাচ্ছিলেন না। আসলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কেউ যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, তার জন্য কাকিমার দুটি মোবাইল ফোনই ভেঙে ফেলেছিল অভিযুক্ত ও তার বন্ধু।
পরে উপায় না পেয়ে মেয়ে তাঁর দাদাকে মায়ের বাড়িতে পাঠালে সত্য সামনে আসে। তিনি এসে দেখেন বাড়ির মূল গেটে তালা লাগানো। জানলা দিয়ে উঁকি দিতেই আঁতকে ওঠেন তিনি। দেখেন মেঝের উপর রক্তে মাখা মায়ের পা পড়ে রয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু ভিতর থেকে দরজা এমনভাবে বন্ধ করা ছিল যে, ঘরের ভিতরে ঢোকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বাথরুমের জানলার স্ল্যাব সরিয়ে ঘরের ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। দেখা যায়, একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে দরজার লক জ্যাম করে দেওয়া হয়েছিল। ঘরের ভিতর ‘সোফা-কাম-বেড’-এর নিচে লুকানো ছিল দুর্গাদেবীর নিথর দেহ।
তদন্তকারীদের নজরে প্রথম থেকেই ছিল ওই কিশোর। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “অভিযুক্ত নাবালক ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিল। বারবার মুখ ঢাকছিল এবং যে ঘরে দেহটি লুকানো ছিল, সেই ঘরের দিকেই তাকিয়ে ছিল সে।”
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ওই কিশোর। সে জানায়, দেহ লুকানো ও তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করতে তার এক বন্ধুও তাকে সাহায্য করেছিল। আপাতত দুই নাবালককেই আটক করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷
