আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে লাখ লাখ টাকা কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস। ভোপালের ৪০টিরও বেশি মাদ্রাসা এবং সংখ্যালঘু স্কুল ভুয়ো বা অযোগ্য ছাত্রদের ব্যবহার করে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ওইসব মাদ্রাসা বা স্কুলগুলিতে আদৌ কোনও ছাত্র কখনও পড়ত নাকি পড়ুয়ার সংখ্যা কেবল খাতায়-কলমে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। 

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-র সাংবাদিকরা ভোপালের আম ওয়ালি মসজিদের কাছে "সিটি মন্টেসরি স্কুল"-এ গিয়েছিলেন। এই স্কুলও ভোপাল পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের নজরে। কিন্তু, ওই অঞ্চলে "সিটি মন্টেসরি স্কুল"-এর বাস্তবে কোনও অস্বিত্ব মেলেনি। তবে, নির্জন গলির মধ্যে জীর্ণ স্কুল বোর্ড মিলেছে, সেকানে আবছাভাবে লেখা "সিটি মন্টেসরি"। বাস্তবে অবশ্য ওই স্কুলের কোন শ্রেণীকক্ষ নেই, কোন ছাত্র নেই, কেবল একটি তালাবদ্ধ কাঠামো মিলেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন স্কুলটি কখনও খোলা হয়নি, বন্ধই পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আজিম বলেন, "তারা কেবল জায়গা ভাড়া নিয়েছিল এবং একটি বোর্ড লাগিয়েছিল। এখানে কখনও কোনও ক্লাস হয়নি। আমি সারা জীবন এখানেই কাটিয়েছি। ওই বোর্ডটি বছরের পর বছর ধরে রয়েছে, কিন্তু কোনও দিনই স্কুল খোলেনি।" 

সরকারি রেকর্ড অনুসারে, ওই স্কুলটির প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত রয়েছে ২৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য ১.৬৫ লক্ষ টাকা স্কলারশিপ দাবি করা হয়েছে।

কেলেঙ্কারি এখানেই থেমে নেই। ক্রাইম ব্রাঞ্চের মতে, যথাযথ স্বীকৃতি ছাড়াই অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কিছু প্রতিষ্ঠান কেবল অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অনুমোদিত) একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নামে বৃত্তি দাবি করেছে। সংখ্যাটি অবাক করার মতো, ৫৭.৭৮ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে ৯৭২ জন শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে।

দুর্নীতির রহস্য ভেদে ১০০ টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তদন্তের আওতায় রয়েছে। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শৈলেন্দ্র সিং চৌহান বলেছেন, "আমরা ৪০টি স্কুল এবং মাদ্রাসার পরিচালকদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করেছি। যদি শিক্ষার্থীরা ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে। বিরোধী দলগুলো বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এই কেলেঙ্কারি শিক্ষা-সম্পর্কিত দুর্নীতির ক্রমবর্ধমান তালিকায় আরেকটি সংযোজন। প্রাক্তন কংগ্রেস মন্ত্রী পিসি শর্মা বলেন, "ব্যাপম থেকে নার্সিং পর্যন্ত, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেলেঙ্কারি হয়েছে। এই অর্থ উদ্ধার করে যোগ্যদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।" 

জবাবে, সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী কৃষ্ণা গৌর বিতর্ক এড়াতে মরিয়া। তিনি বলেন, "এই অভিযোগগুলি পূর্ববর্তী আমলে উত্থাপিত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি তদন্ত করছে। আমাদের বিভাগ সহযোগিতা করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে।"

এনডিটিভির বাস্তবতা যাচাই করতেই তীব্র বিড়ম্বনা প্রকাশ পেয়েছে। দেখা গিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু তারা কখনও সাহায্য পায়নি। হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী যাদের সত্যিকার অর্থে সাহায্যের প্রয়োজন, তারা অবহেলিত থেকে গিয়েছে। এই কেলেঙ্কারি কেবল জনসাধারণের অর্থ চুরি নয়, এটি একটি দরিদ্র শিশুর উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগকে শেষ করে দিয়েছে।