আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনেকের জন্য বই পড়া দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ত গতি থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায়। কেরালা এবং কিউবার তামাক কারখানায় কর্মীরা কাজ করার সময় খবরের কাগজ পড়ার জন্য উপায় বাতলেছিলেন। এর ফলে তাঁরা নানা বিষয়ে অবগত থাকতেন। লেখক উলেখ এনপি তাঁর লেখা বইয়ে এই অনন্য ঐতিহ্যের সন্ধান করেছেন। 

তিনি তার নতুন বই 'ম্যাড অ্যাবাউট কিউবা: এ মালায়লি রিভিজিটস দ্য রেভোলিউশনে'। নব্বইয়ের দশকে কেরলের বিড়ি কারখানার কর্মীরা প্রায়শই তরুণ ছাত্র বা যথেষ্ট শিক্ষিত কোনও ব্যক্তিকে নিয়োগ করত যাতে তাঁরা যখন বিড়ি বাঁধবেন সেই সময় ওই শিক্ষিত যুবক বা ব্যক্তি উচ্চস্বরে সংবাদপত্র পড়তে পারে। একইভাবে, কিউবায় ১৮৬৫ সাল থেকে শ্রমিকদের জন্য পেশাদার পাঠক নিয়োগ করা হয়েছিল, যারা বই, সংবাদ এবং বক্তৃতা পড়তেন। 

কিছু বিড়ি কারখানায় শ্রমিকরা পাঠকদের পুরস্কার হিসেবে এক প্যাকেট বিড়ি ও এক কাপ চা দিতেন। পাঠকও যদি নিজেই বিড়িকর্মী হয়ে থাকেন, অন্যরা তাঁদের প্রতিদিনের লক্ষ্য পূরণের জন্য নিজেদের বাঁধা তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। নানা সময় পাঠকরা উচ্চস্বরে উপন্যাস এবং বই পড়তেন, যার মধ্যে ইএমএস নাম্বুদিরিপ্যাডের মতো বিখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং ফ্রান্সের আলবার্ট কামু এবং মেক্সিকো থেকে জুয়ান রুলফো-এর মতো বিখ্যাত লেখকদের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

লেখক আরও লিখেছেন, "কিউবায় যাঁরা সিগার তৈরি করেন তাঁদের এই একই ধরনের অভ্যাস রয়েছে। তাঁদের জন্য পেশাদার পাঠক রয়েছেন যাঁরা সিগার কারখানার কর্মচারীদের জন্য বই পড়েন। এটি কিউবার সিগার কারখানার একটি ভাল দিক। ১৮৬৫ সালে থেকে এই সাল থেকে একটি অনুশীলন চলছে। পাঠকও যেহেতু সিগার তৈরি করতেন, তাঁর সময় নষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে সিগার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। পরে অবশ্য বেতনব্যবস্থা চালু হয়।

কারখানার মালিকরা প্রথমে এই প্রথার বিরুদ্ধে থাকলেও পরে এটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। লোক মতে, কিউবার স্বাধীনতার নায়ক হোসে মার্টি একবার পাঠকের চেয়ারে বসে ফ্লোরিডার একটি কারখানায় কিউবার তামাক শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। পাঠকের ভূমিকা এতটাই বিশিষ্ট হয়ে ওঠে যে কিউবান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।