আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলে নতুন ভোটারদের বুথমুখী করতে অভিনব একগুচ্ছ উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার যারা তালিকায় নাম তুলেছে এবং ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি ভোটারদের ভোটদানের পর বুথে টিফিন দেওয়া হবে। এক টাকার বিনিময়ে টিফিনে মিলবে চালের আটার রুটি এবং হালুয়া। এছাড়াও দেওয়া হবে একটি কুপোন, সেগুলোর মাধ্যমে স্টারবাকস ও ক্যাফে কফি ডে-এর মতো কফি চেইনগুলোতে মিলবে ছাড়। পাশাপাশি, নবীন ভোটারদের বুথে আসা যাওয়ায় জন্য দু'কিলোমিটারের জন্য কোনও ভাড়া মেটাতে হবে না, পরিষেবা দেবে উবার। সেই ভাড়া দেবে নির্বাচন কমিশন। তবে, শর্ত হল বুথের নাম, নম্বর এবং ভোটার কার্ডের নম্বর দিয়ে রাইড বুক করতে হবে। 

এখানেই শেষ নয়, প্রথম ও তরুণ ভোটারদের উৎসাহিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ভিডিও, সোশাল মিডিয়া রিল, বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তরুণ ভোটারদের বুথমুখী করতে ‘Gen Z anthem’ (তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ সঙ্গীত)-এরও সূচনা করেছেন।

কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রথান ইউ কেলকার পিটিআই-কে বলেছেন, “সবাই-ই কিছু না কিছু করতে আগ্রহী; তাই আমরা এখন দেখব তাঁরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো নিয়ে কীভাবে এগিয়ে আসে। তাঁরা যদি ইতিবাচকভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়, তবে তা অত্যন্ত ভাল একটি বিষয় হবে। এর ফলে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে এবং তা ভোটারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।”

কেলকার জানান, কেরালার ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। কিন্তু এদের অনেকেই নির্বাচনের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নন। এমনকি ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকে ভোট দিতে আসেন না। সমস্যার সমাধানে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের অধিকার এবং প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক  বলেন, “তরুণ ভোটাররা প্রায়শই মনে করেন যে, তাদের একটি মাত্র ভোট দিয়ে নির্বাচনের ফলাফলে কোনও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভোটদানে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নির্বাচনের দিন প্রতিটি জেলার ‘প্রথমবার ভোটার’দের জন্য বিশেষ মোড়কে মোড়ানো হালুয়ার প্যাকেট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ধরনের মোট ২০০টি প্যাকেট সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারাই নির্দিষ্ট কিছু ভোটকেন্দ্রে এই প্যাকেটগুলো বিতরণের বিষয়টি সমন্বয় করবেন। বুথ-স্তরের আধিকারিকরা (বিএলও) এবং স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমবার ভোট দিতে আসা ভোটারদের শনাক্ত করবেন এবং নিশ্চিত করবেন যেন হালুয়ার প্যাকেটগুলো প্রথমবারের ভোটারদের হাতেই পৌঁছায়।

এ ছাড়াও, এর্নাকুলাম ও তিরুবনন্তপুরম জেলায় ভোটকেন্দ্রের দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যাতায়াতের জন্য ‘উবার’ (Uber) বিনামূল্যে রাইড বা যাতায়াত সুবিধা প্রদান করছে। নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দুই কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

কেরলে ভোট হবে ৯ এপ্রিল। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর, অর্থাৎ ১০ ও ১১ এপ্রিল - এই দুই দিন ‘সাপ্লাইকো’ মাত্র এক টাকায় চালের গুঁড়ো বিক্রি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, স্টারবাকস ও ক্যাফে কফি ডে-এর মতো কফি চেইনগুলো ভোটারদের জন্য বিশেষ ছাড় বা ডিসকাউন্ট দেওয়ার কথা নিশ্চিৎ করেছে। কেলকার বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে, আমরা তরুণ ভোটারদের সুবিধা প্রদান এবং তাদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য হল তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং তাদের ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা।”

নির্বাচন কমিশনের ‘ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাব’ বা নির্বাচনী স্বাক্ষরতা ক্লাব - যার সদস্য সংখ্যা ২,০০০-এরও বেশি স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন জনপদ এবং উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সক্রিয়ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেলকার জোর দিয়ে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি এই উদ্যোগগুলো সফল হবে এবং আমি নিশ্চিত যে, এবারের নির্বাচনে এগুলোর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে,” 
তিনি আরও জানান যে, রাজনৈতিক দলগুলোও এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

কেলকার আশাবাদী যে, এই পদক্ষেপগুলো কেবল তরুণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিতই করবে না, বরং সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতির হারও প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছে দেবে।