আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৯৮৪ সালে দিল্লির শিখ বিরোধী হিংসায় জোড়া খুনের মামলায় কংগ্রেস নেতা সঞ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দিল রাজধানীর একটি আদালত। মঙ্গলবার এই সাজা ঘোষণা হয়েছে। জোড়া খুনের মামলায় সরকারপক্ষ সজ্জনকে মৃত্যুদণ্ড দিতে আদালতে সওয়াল করেছিল। তবে বিচারক সেই আর্জি খারিজ করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিখ বিরোধী হিংসায় জোড়া খুনের মামলায় দিল্লির আদালত সজ্জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। বর্তমানে প্রাক্তন এই কংগ্রেস সাংসদ তিহাড় জেলে বন্দি।
এই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে ৪০ বছর আগে দিল্লির শিখ বিরোধী হিংসায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। ওই সময় একটি জোড়া খুনের ঘটনায় গত সপ্তাহে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। গত মঙ্গলবার সেই মামলায় সরকারি আইনজীবী কংগ্রেস নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানান।
পাল্টা সজ্জন কুমারের আইনজীবীরা পাল্টা পিটিশন পেশ করেন। দিল্লির নিম্ন আদালতের বিচারক দু'পক্ষের বক্তব্যের উপর গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুনানি ছিল। সেদিন শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা ছিলেন শিখ ধর্মাবলম্বী। তাঁদের হাতেই প্রধানমন্ত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৮৪ সালে শিখ বিরোধী হিংসার সূত্রপাত ঘটে।। ইন্দিরা হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশের বহু এলাকায় শিখ সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়। দিল্লিতে তা ব্যাপক আকার ধারন করে। কংগ্রেসের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে হিংসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধেও একাধিক হিংসার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু দীর্ঘদিন বিচারের আওতার বাইরে ছিলেন তিনি। শেষে তিন বছর আগে একটি মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা হয়।
দ্বিতীয় মামলাটি জোড়া খুনের ছিল। দিল্লির সরস্বতী নগরে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনায় তাঁকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন সজ্জন। অবশেষে তাঁকে এই মামলাতেও সাজা শোনালো আদালত।
