আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুর এক ফ্ল্যাটে অনলাইন ডেলিভারি বয়ের হাতে এক তরুণীর শ্লীলতাহানি ও হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের ঘরেই একজন মহিলা কতটা অসুরক্ষিত, তা এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল। ভুক্তভোগী তরুণী সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরার পর থেকেই নেটিজেনদের ক্ষোভের আগুন আছড়ে পড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুর মারাঠাহাল্লি থানার পুলিশ অভিযুক্ত ডেলিভারি বয়কে গ্রেপ্তার করেছে।

তরুণী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন একটি পার্সেল দিতে ওই ডেলিভারি বয় তাঁর ফ্ল্যাটে আসে। পার্সেলটি দেওয়ার পর সে তরুণীর কাছে তাঁর বাথরুম ব্যবহার করার অনুমতি চায়। অচেনা কোনো পুরুষকে একা ঘরে ঢুকতে দিতে রাজি ছিলেন না তরুণী। তাই তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে বারবার তাকে বারণ করেন এবং প্রয়োজনে পাশের ফ্ল্যাটের পুরুষ প্রতিবেশীদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সব বারণ অমান্য করে, গায়ের জোরে জুতো খুলে তরুণীর ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে ওই ডেলিভারি বয় এবং সোজাসুজি বাথরুমে চলে যায়।

আসল আতঙ্ক শুরু হয় তার বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসার পর। তরুণীর অভিযোগ, বাথরুম থেকে বেরিয়েই ওই ব্যক্তি তাঁর সামনে চরম অশালীন আচরণ করে এবং নিজের গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করে। নিজের চেনা ঘরেই এমন আকস্মিক ও বিকৃত হেনস্থার শিকার হয়ে স্তব্ধ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তরুণী। সেই ভয়ানক মুহূর্তের কথা মনে করে তিনি জানান, ভয়ে তাঁর বুক কাঁপছিল। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নেয়, এই আশঙ্কায় তিনি ফ্ল্যাটের মূল দরজাটি খোলা রেখে দরজার ঠিক মুখে গিয়ে দাঁড়ান এবং ফোনের ক্যামেরাটি অন করে রাখেন, যাতে কোনও  বিপদ হলে চিৎকার করে বাইরে পালিয়ে বাঁচতে পারেন। একজন মহিলা স্পষ্টভাবে 'না' বলার পরেও কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করে ঘরে ঢুকে পড়া যায়, তা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বিজয় মল্লিকার্জুন কামাথ এবং তাকে ইতিমধ্যেই গরাদখানায় পোরা হয়েছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সংস্থা ফ্লিপকার্টও একটি বিবৃতি জারি করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, গ্রাহকের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং অভিযুক্ত ডেলিভারি পার্টনারকে তৎক্ষণাৎ কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা পূর্বপরিচয় খতিয়ে দেখার পরেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় এতটাই ক্ষুব্ধ যে, অপরাধীর কঠোরতম শাস্তির দাবির পাশাপাশি নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে ঘরে গ্রিল গেট লাগানো বা আত্মরক্ষার জন্য ধারালো অস্ত্র রাখার মতো পরামর্শও দিতে শুরু করেছেন অনেকে।