আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে ই-২০ পেট্রোল চালুর পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে গাড়ি বা বাইকের ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার অভিযোগ জানিয়ে লেখা ও ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়ে গাড়ি চালকদের মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ক্ষতি হলে তা কে মেরামতের করবে? কীভাবেই বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির কর্মক্ষমতা বা মাইলেজ কমলে সরাসরি জ্বালানিকে দায়ী করা সবসময় ঠিক নয়। সম্প্রতি এক জনপ্রিয় ইউটিউবার সৌরভ যোশী দাবি করেন, ই-২০ পেট্রোলের জন্যই তাঁর মার্সিডিজ-বেঞ্জের মাইলেজ কমে গিয়েছে। তবে পরে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর অনুমান ভুল। সমস্যাটি ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির, জ্বালানির নয়। একইভাবে আর এক ইউটিউবারের টয়োটা এসইউভি নষ্ট হওয়ার দাবিও খারিজ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। তদন্ত করে দেখা যায়, গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্কে পেট্রোলের সঙ্গে জল মিশে গিয়েছিল। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মণীশের বিরুদ্ধে দু'টি এফআইআরও দায়ের করা হয়।
তবে জানা গিয়েছে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় সমস্যাটি গাড়ির উৎপাদনগত ত্রুটির জন্য তবে তা কোম্পানির ওয়ারেন্টির অধীনে বিনামূল্যে তা মেরামত করা যাবে। অন্যদিকে, যদি জ্বালানির মান খারাপ হওয়ার কারণে গাড়ির ক্ষতি হয় তা হলে তেল সরবরাহকারী বা রিটেলার সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে। তবে সাধারণ মোটর ইনশিয়োরেন্স পলিসিগুলি যান্ত্রিক ত্রুটি সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয় না। যদি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তবে ক্রেতারা কনজিউমার কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, দেশজুড়ে E20 জ্বালানি চালুর আগে একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে। ইথানল মেশানোর কারণে গাড়ির মাইলেজে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ কমতে পারে। তবে এ ছাড়াও গাড়ির ড্রাইভিংয়ের অভ্যাস, টায়ারের প্রেশার এবং এসির ব্যবহার মাইলেজের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মারুতি সুজুকি-র প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং করেছে। যার মধ্যে ১.৫ কোটিরও ই-২০ সার্টিফায়েডহীন বেশি গাড়ি ছিল বেশ পুরনো নয়। তা সত্ত্বেও দেশজুড়ে ইথানলজনিত বড় কোনও যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ বা ওয়ারেন্টি দাবির ঘটনা জনসমক্ষে আসেনি।
















